বাড্ডার ওসিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৩ ডিসেম্বর

চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগে বাড্ডা থানার ওসিসহ আটজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার মামলাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এজন্য ঢাকা মহানগর হাকিম মুহাম্মদ মাজহারুল হক প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ তারিখ ঠিক করেন।

এর আগে উত্তর বাড্ডার পূর্বাচল সড়ক এলাকার মিসেস নুরুন নাহার নাছিমা বেগম নামে এক নারী বাদী হয়ে গত ১১ জুন আদালতে এ মামলাটি করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন— বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল, এসআই শহীদ, এএসআই দ্বীন ইসলাম, এএসআই মো. আব্দুর রহিম, অ্যাডভোকেট জাহানারা রশিদ রূপা, রোকেয়া রশিদ, আতাউর রহমান কাইচার ও মো. শুক্কুর আলী। মামলায় পাঁচজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মামলার বাদী নুরুন নাহার নাছিমার সঙ্গে মামলার পাঁচ নম্বর আসামি জাহানারা রশিদের (বাদীর সতীনের মেয়ে) জমিজমা নিয়ে মামলা চলে আসছিল। আসামি জাহানারা রশিদ বাদী ও তার আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা করেছেন। আসামি জাহানারা রশিদের বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। ডেসকো তার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলে তিনি বাদীর থেকে সংযোগ নিতে চান। কিন্তু বাদী অপারগতা প্রকাশ করেন। আসামি জাহানারা রশিদ বাড্ডা থানার পুলিশের সহায়তায় বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকেন।

গত ২৬ মে ওসি এম এ জলিলের আদেশে এএসআই আব্দুর রহিম বাদীর ভাড়াটিয়াকে বাড়ি থেকে বের করে বাসার চাবি নিয়ে যান। বাদী চাবি ফেরত চাইতে থানায় গেলে এএসআই আব্দুর রহিম ওসি এম এ জলিলের জন্য দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এরপর ১০ জুন এম এ জলিলের আদেশে বাদীর বাড়িতে এসআই শহীদ, এএসআই দ্বীন ইসলামসহ আরো তিনজন কনস্টেবল এবং সিভিল পোশাকে ৫/৭ জন এবং ৫ থেকে ৮ নম্বর আসামিরা বাদীর অনুপস্থিতিতে তার বাড়িতে এসে ছেলে রবিন দেওয়ানকে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বলেন। রবিন সংযোগ দিতে অপারগতা জানালে আসামি দ্বীন ইসলাম এবং শহীদ তাকে গালিগালাজ-মারপিট করেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে যান।

বাদী নুরুন নাহার নাছিমা বাসায় এসে দেখেন ২, ৩, ৫, ৬, ৭ ও ৮ নম্বর আসামি এবং তিনজন পুলিশ কনস্টেবল তার সমস্ত আসবাবপত্র তছনছ করেছে। আসামি দ্বীন ইসলাম তার আলমারি ভেঙে ২০ হাজার টাকা, পাঁচ ভরি সোনা এবং আসামি জাহানারা রশিদ বাদীর জমিজমার কাগজপত্র নিয়ে যান। আসামি দ্বীন ইসলাম বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় বাদী এবং তার প্রতিবেশী হারিছ মিয়াকে হত্যার হুমকি এবং রবিনকে বিভিন্ন মাদকের মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।