প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার ছুটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে আইনজীবী সমিতির সরকার এবং বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। রোববার দুপুরে একই সময়ে দুইপক্ষ এসব কর্মসূচি পালন করে। সরকার সমর্থকরা আইনজীবী সমিতির উত্তর হলে সংবাদ সম্মেলন করে। অন্যদিকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বার ভবনের সামনে মানববন্ধন করে। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিলেও অংশ নেয়।

আওয়ামী সমর্থিত আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সহ-সভাপতি মো. অজিউল্লাহ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘সভাপতি ও সম্পাদক সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) নামে ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করছেন, আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি।’

এতে দাবি করা হয়, রাষ্ট্রের ভিভিআইপি ব্যক্তি হিসেবে প্রধান বিচারপতির জীবন যাপন ও কার্য্য পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রটেকশন ও প্রটোকল রয়েছে। এটা ভঙ্গ করে তার অনুমতি ব্যতীত কোনো ব্যক্তি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ বা দেখা করতে পারেন না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট বারের পবিত্র দায়িত্ব হচ্ছে বিচারকার্য্য পরিচালনা সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে সহায়তা করা। প্রধান বিচারপতির ছুটি সংক্রান্ত কোনো ধরনের বিবৃতি ও বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাবেক সভাপতি বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক বার সভাপতি আবদুল বাসেত মজুমদার প্রমুখ।

অন্যদিকে মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশে আজকের সংকট হলো সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগর স্বাধীনতা থাকবে কি থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘একটি রায় সরকার পছন্দ করেনি। আজকে সেই রায়ের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সরকার এবং সরকারি দলের নেতৃবৃন্দ যে আচরণ করেছেন তা নজিরবিহীন। কোনো সভ্য দেশে, কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কোনো দিন শুনিনি প্রধান বিচারপতিকে গৃহবন্দি করেছে।’

মওদুদ আহমদ দাবি করেন, ‘এখনো তিনি (প্রধান বিচারপতি) সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছেন। সরকারের অনুমোদন ছাড়া কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। অর্থাৎ তাতে কি বুঝা যায় না তিনি শুধু নজরবন্দি নন, তিনি তাদের অধীনে তাদের কাস্টডিতে তথা সরকারের হেফাজতে এখন আছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনজীবী নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। দেশের সাংবাদিকরা দেখা করতে পারেন না। তার আত্মীয়-স্বজনেরা এখনো তার সঙ্গে দেখা করতে পারেনি।’

সরকার ও সরকারি দলকে উদ্দেশ করে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আপনাদের বক্তব্যে প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের উপরে হামলা এসেছে। এ হামলা নগ্ন হামলা, এটা আওয়ামী হামলা।’

তিনি বলেন, ‘(অবকাশকালীন) ছুটির আগে আওয়ামী আইনজীবীরা সরকারের তরফ থেকে বলেছিলেন- প্রধান বিচারপতি আপনি যদি রায় বাতিল না করেন বন্ধের পরে আপনাকে আর বসতে দেওয়া হবে না। এরই প্রতিফলন হিসেবে আজকে জোর করে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।’

সুপ্রিম বার সভাপতি বলেন, ‘এখন শুনছি তাকে জোর করে বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ১৯৮২ সালে এভাবে কামাল উদ্দিন হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তখন আইনজীবীরা আন্দোলন করেছিল। আন্দোলন কখনো বৃথা যায়নি, আমাদের আন্দোলনেও সফলতা আসবে।’