প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগে চাপ দিচ্ছে সরকার : বিএনপি

ছুটি নিতে বাধ্য করার পর এখন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে দেশত্যাগে প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সন্ত্রাসী কায়দায় প্রথমে প্রধান বিচারপতিকে গৃহবন্দি করে রাখার পরে এখন নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে। এখন সার্বক্ষণিক প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে প্রধান বিচারপতিকে দেশত্যাগের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন এজেন্সির লোকরা প্রতিনিয়ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে পারলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বারবার চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত দেখা করতে পারেননি। প্রধান বিচারপতি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলেও প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে অসুস্থতার কথা বলা হচ্ছে। চিকিৎসার নামে ডাক্তার পাঠানো হচ্ছে। যা সরকারের নির্লজ্জ নাটক।’

বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, ‘জনগণ সরকারের এসব সাজানো নাটক তিল পরিমাণও বিশ্বাস করে না। বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলেই সরকারের উদ্দেশ্য সাধিত হয় এবং একদলীয় শাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে বিলম্ব হবে না।’
রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতাকর্মী এবং ভিন্ন মত ও বিশ্বাসের মানুষরা এখন ক্রুদ্ধ সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হতে থাকবে। প্রতিকার পাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকল না। সরকার সম্পূর্ণরুপে বিচার বিভাগকে আয়ত্বে নিতে পারলে অত্যাচারী সরকার বিচার বিভাগকে দিয়ে নিষ্ঠুর বল প্রয়োগে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে দমন করতে চাইবে। নিজের দুর্বিনীত ইচ্ছাকে জুডিশিয়াল টেরোরিজমের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে, দাবি করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা রাশিয়া-চীনের মতো বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে পাশে তো নিতে পারেইনি, নিরপেক্ষ রাখতেও পারেনি। এই রাষ্ট্রগুলো মিয়ানমার সরকারের নীতিকেই সমর্থন করেছে। এই সরকারের সবচেয়ে বড় বন্ধু ভারতও আওয়ামী সরকারকে কাঁচকলা দেখিয়ে মিয়ানমার সরকারের নীতির প্রতি সমর্থন দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সমালোচনাকে কিছুটা সামাল দেওয়ার জন্য মিয়ানমারের দূত বাংলাদেশে এসেছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তাদের কৌশল বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে