নোবেল নয়, মানুষের ভালোবাসাই ‘বড়’ শেখ হাসিনার কাছে

জাতিসংঘ সফর শেষে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার লন্ডনের স্যাভয় হোটেলে নিজ দলের প্রবাসী নেতাদের সাক্ষাৎ দেন।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণার একদিন আগে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে আলোচনার পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের প্রসঙ্গটিও আসে।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নোবেল প্রসঙ্গে তিনি (শেখ হাসিনা) বলেছেন, সেটা কোনো বিষয় নয়।

“তিনি বলেছেন,তিনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে এটাই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় পাওয়া।”

মিয়ানমারে নির্যাতিত ৫ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে এবারের নোবেল পুরস্কারের দাবিদার মনে করছেন তার দলের নেতা-কর্মীরা।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কথা দলের প্রবাসী নেতাদের বলেন শেখ হাসিনা।

“তারা যতদিন থাকবে, বাংলাদেশের মানুষ ততদিন তাদের খাবার দাবারের ব্যবস্থা করবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সঙ্কট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বাধা হতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না।

“বাংলাদেশ কোনো সমস্যা দেখে ভয় পায় না…। মিয়ানমার থেকে নির্মমভাবে তাড়িয়ে দেওয়া লাখ লাখ লোক বাংলাদেশে চলে আসা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনেও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের কর্মসূচি শেষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পিত্তথলি অপসারণ করা হয়  ।

কয়েকদিন বিশ্রাম নিয়ে গত সোমবার লন্ডন যান তিনি। অসুস্থতার কারণে ফেরার তারিখ পেছালেও ঢাকার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি অনলাইনে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজও সারছেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার বাংলাদেশে ফেরার আগে এর ফাঁকেই বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের সাক্ষাৎ দেন তিনি।

আলোচনায় পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গটিও আসে বলে জানান সৈয়দ ফারুক।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু নিয়ে কথা বলার সময় আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই মনে করছিল, একাজ আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি, আমরাও পারি’।”

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রবাসী সবাইকে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান সৈয়দ ফারুক।

প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতারা শেখ হাসিনার স্বাস্থ্যের খবরাখবর নেন এবং দ্রুত তার পূর্ণ সুস্ততা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান এম শরীফ, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, আবুল হাশেম, জালাল উদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন।