ইসলাম আত্মনিগ্রহে বিশ্বাস করে না

ইসলাম আত্মনিগ্রহে বিশ্বাস করে না। বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি এমন মতবাদকে ইসলাম প্রত্যাখ্যান করেছে।ইবাদতের নামে নিজের সাধ্যের চেয়ে বেশি কিছু করতে হবে এমন ধারণাকেও উৎসাহিত করা হয়নি পবিত্র কোরআন এবং রসুল (সা.)-এর হাদিসে। জীবনযাপন এবং ইবাদত সর্বক্ষেত্রে স্বাভাবিকতা বজায় রাখাই ইসলামের শিক্ষা।

মুসাফির বা পথিক যেমন অবিরত পথ অতিক্রম করে, অনুকূল সময়ে সফর করে, অবশিষ্ট সময়ে নিজেও বিশ্রাম নেয় এবং নিজের বাহনকেও বিশ্রামের সুযোগ দেয়, দীনের পথের পথিকের অবস্থাও তেমন হওয়া উচিত। নিজেকে সামর্থ্যের অতিরিক্ত কঠোরতার মধ্যে নিক্ষেপ করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে নফল ইবাদতে কড়াকড়ি করা ইত্যাদি কারণে দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ির পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়। হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : নিজের মর্যাদাহানি করা মুমিন ব্যক্তির জন্য শোভা পায় না। সাহাবিগণ বললেন, মুমিন ব্যক্তি কেমন করে নিজের মর্যাদাহানি করতে পারে?  তিনি বলেন, নিজেকে সামর্থ্যের অতিরিক্ত পরীক্ষার সম্মুখীন করা (তিরমিযি থেকে মিশকাতে, বাব জামিউদ-দুআ)। উপরোক্ত হাদিসে স্পষ্ট হয় যে মানুষ সুষ্ঠু এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করুক আল্লাহ এবং তার রসুল (সা.) তেমনটিই চেয়েছেন। এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির কোনো অবকাশ নেই। শরীর ও মনকে কষ্ট দিয়ে নয় বরং স্বাভাবিকতা বজায় রেখে সব কিছু করতে হবে। কেউ দেহ মনকে কষ্ট দিলে সওয়াব বেশি মিলবে ভাবলে তা ভুল করা হবে। কারণ আল্লাহ পরম দয়ালুময় সত্তা, তিনি চান না তার বান্দা কষ্ট পাক। আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন এই ভাবনায় আত্মনিগ্রহের পথ বেছে নেওয়া কোনোভাবেই পবিত্র কোরআন কিংবা হাদিসে রসুল (সা.) নির্দেশমতো পথ নয়। এ পথ পরিহার করাই উত্তম। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে তার দুই ছেলের কাঁধে ভর দিয়ে পা হেঁচড়ে যেতে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন : এই ব্যক্তির কী হয়েছে? লোকেরা বলল, সে পদব্রজ আল্লাহর ঘর (কাবা) জিয়ারত করতে যাওয়ার মানত করেছে। তিনি বলেন : এই ব্যক্তিকে শাস্তির মধ্যে নিক্ষেপ করা থেকে মহান আল্লাহ মুক্ত। তিনি তাকে বাহনে চড়ে যেতে নির্দেশ দিলেন (বুখারি, মুসলিম, তিরমিযি, ইবনে মাজা, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ (দারিমি)। কোনো কোনো লোক মনে করে, মানুষ নিজেকে যত বেশি কষ্ট ও কঠোরতার মধ্যে নিক্ষেপ করবে আল্লাহ তার প্রতি তত বেশি সন্তুষ্ট হবেন। উল্লিখিত হাদিসে এই ভ্রান্ত ধারণা সংশোধন করা হয়েছে। আমাদের উচিত হবে অযথা শরীর ও মনকে কষ্ট দেওয়ার পথ থেকে বিরত থাকা। কোনো ক্ষেত্রে স্বাভাবিকতার পথ পরিহার করে বাড়াবাড়ির আশ্রয় না নেওয়া। আল্লাহ আমাদের সর্বক্ষেত্রে সহজ সরল পথে থাকার তওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : ইসলামী গবেষক।