আল্লাহ আছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে

 আমরা সকলেই জানি সবর বা ধৈর্য্য মুমিনের মহৎ গুন। তাছাড়া ধৈর্য্যশীলদের আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন ।

ধৈর্য মানব জীবনকে সাফল্যমন্ডিত করার ব্যপারে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করে। ব্যক্তি জীবনে শান্তি শৃংখলা ও কল্যাণকর জীবন যাপনের জন্য সবরের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামের প্রথম যুগে সাহাবায়ে কেরামগণ ঈমান আনয়নে সীমাহীন অত্যাচার নির্যাতনের মোকাবিলায় ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন।

রাসুল (সাঃ) বলেন যে সবর করে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সবর করার শক্তি দান করেন। আল্লাহ তায়ালা সবরের চেয়ে অধিক উত্তম ও কল্যাণকর আর কিছু কাউকে দান করেনি। যে ব্যক্তি পারলৌকিক বিপদাপদ ও দুঃখ- ক্লেশ থেকে নাজাত পেতে আশা রাখে তাকে সর্ব রকম রোগ-শোক, দুঃখকষ্ট এবং বিপদাপদে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা অবলম্বন করে আল্লাহ তার সাথে রয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে বলেন, “ হে মুমিনগণ তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থণা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন”।

আল্লাহর উপর ঈমান এনে আল্লাহকে ভালবেসে যারা জীবন পরিচালনা করার অঙ্গীকার করবে আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে নানা ভাবে পরিক্ষা করবেন। এই পরীক্ষায় তারাই সফল হবেন যারা ধৈর্যশীল। সুরা বাকারার ১৫৫ আয়াতে বলেন, “ এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল ফসলের বিনষ্টের মাধ্যমে।তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদেরকে’’।

ব্যক্তিগত জীবনেও সবরের গুরুত্ব অপরিসীম। কোন সংসারে বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, সবাই মিলে শান্তিতে বসবাস করতে চাইলে সবইকে ধৈর্যশীল হতে হবে। ধৈর্যহীন হয়ে মানুষ পাপ-পংকিলতার পথে পা বাড়ায়। ধৈর্যই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। আল্লাহ বলেন- “ হে ঈমানদারগণ তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং ধৈর্য ধারণের প্রতিযোগিতা কর এবং ধৈর্য সহকারে পরস্পরকে শক্তিশালী কর। আর আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।(সূরা আল ইমরান-২০০)।

একজন মুমিন পরিপুর্ণভাবে আলাহর উপর ভরসা করবে। বিপদে আপদে সুখে দুঃখে একমাত্র আল্লাহকেই হিসেবে মেনে নিলে আল্লাহ তাদের প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ বলেন,- “ধৈর্য ধারন করো নিশ্চয়ই আল্লাহ পূণ্যবানদের প্রতিদান বিনষ্ট করবেন না”।

যারা ধৈর্য ধারণ করে সৎ কাজ করে যাবে আল্লাহ তাদের অশেষ পুরস্কার দেবেন। কেউ গালি দিলে খারাপ কথা বললে ধৈর্য ধারণ করে এরিয়ে যেতে হবে। আল্লাহ বলেন- “ কাফেররা যা বলে তজ্জন্যে আপনি সবর করুন এবং সুন্দর ভাবে তাদেরকে পরিহার করুন”।

হাদিসে এসেছে, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, সেই ব্যক্তিই বীর যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে”। কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “ যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে দেয় তা হবে অবশ্যই দৃঢ় সাহসিকতাপূর্ণ কর্ম সমুহের অন্তর্ভুক্ত।

যারা ধৈর্য ধারণকরে এবং সৎ কাজ করে তাদের জন্য আল্লাহর নিকট বিরাট প্রতিদান রয়েছে। সামগ্রিক ভাবে বলা যায় সবর করতে হবে সুসজ্জিত সেই জান্নাতের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছা পর্যন্ত। আল্লাহ আমাদের সকলকে ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ সহজ করে দিন, আমিন।