দৃশ্যমান পদ্মা সেতু, বসানো হলো প্রথম স্প্যান

দৃশ্যমান হলো স্বপ্নের পদ্মা সেতু। নানান চ্যালেঞ্জ আর প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এই সেতু এখন বাস্তব। পদ্মার জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে বসানো হয়েছে প্রথম স্প্যান বা ইস্পাতের কাঠামো। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর উদ্বোধন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একক নেতৃত্বে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে পদ্মা সেতুর কাজ।

প্রমত্তা পদ্মার বুক ফুঁড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো দুই পিলারের ওপর শনিবার সকালে ইস্পাতের মূল কাঠামো বা স্প্যান বসানোর সাথে সাথে বাস্তবে দৃশ্যমান হয়ে উঠলো স্বপ্নের পদ্মা সেতু। জাজিরা প্রান্তে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ সাক্ষী হলেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের।

১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও তিন হাজার ২০০ টন ওজনের স্প্যানটি চার হাজার টন ক্ষমতার ক্রেনে করে নেওয়া হয় জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের কাছে। এরপর আনুষঙ্গিক কাজ শেষে সকাল সোয়া দশটার দিকে দুই পিলারের ওপর বসানো হয় ধূসর রঙের ইস্পাতের কাঠামো- যার নাম স্প্যান। এর ওপর দিয়েই চলবে যানবাহন।

পুরো কাজটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ হবে পদ্মা সেতুর কাজ।

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বের সোনালী ফসল আজকের এই দৃশ্যমান পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু এখন আর কোনো রঙিন নয়।”

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এরপর ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারে বসবে স্প্যান। আরও চারটি পিলারে তৈরি হচ্ছে কাঠামো বসানোর জন্য। মাওয়া প্রান্তে ১.২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ পুরোপুরি শেষ। জাজিরা প্রান্তে ১২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ও দুইটি সার্ভিস এরিয়ার কাজও শেষ হয়েছে। মূল সেতুর কাজ হয়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ।

সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত পদ্মা সেতুর মোট ৪৬.৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুতে ৪২টি পিলার থাকবে। এর মধ্যে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ায় এ দুটি পিলারের উপর স্প্যান বসানো হলো।

পদ্মা সেতুর স্প্যান গত বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মাওয়া থেকে জাজিরা এসে পৌঁছায়। স্প্যানটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যার নিচের অংশ দিয়ে ট্রেন এবং উপরের অংশ দিয়ে সড়ক পথের যানবাহন চলাচল করবে। আর এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটবে।

সরকারের প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী, ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ জনসাধারণের জন্য খুলের দেওয়া হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের সবচেয়ে বড় এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দ্বিতীয় আরডিপিপি অনুযায়ী এর নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত আগস্ট মাস পর্যন্ত এই সেতুর ৪৬.৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেতুর জাজিরা পয়েন্টের ৩৭ ও ৩৮ নং পিলারের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় আজ সকাল আটটার দিকে প্রথম স্প্যান বসানো হয়। সরকারের প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদ্মাসেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন এ প্রকল্প পরিচালক।