চট্টগ্রামে সবজির বাজারেও অস্বস্তি!

চালের মতো সবজির খুচরা বাজারেও অস্বস্তি বিরাজ করছে চট্টগ্রামে। ফলে সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকদেরও নাভিশ্বাস উঠছে। চাল আর সবজির বাজার মানেই এখন ক্রেতাদের পকেট থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করা। অথচ সে রকম আয় মধ্যবিত্ত ও নিম্ম আয়ের মানুষের নেই। ক্রেতারা জানান্য, মাস-তিনেক আগে বন্যার অজুহাতে সবজির দাম ৩০-৪০ টাকা থেকে ৬০-৭০ টাকায় চড়ে গিয়েছিল। সবজির খুচরা ব্যবসায়ীরা সে চড়া দাম এখনও ধরে রেখেছেন। অথচ পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজির কোন সংকট নেই, দামও অনেকটা কম। পাইকারি বাজারের সাথে তুলনা করে দেখা গেছে, খুচরা বাজারের প্রায় প্রত্যেকটি সবজির দামই পাইকারি বাজারের দ্বিগুণ। পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা এ জন্য খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীদের দোষারোপ করছেন। রেয়াজুদ্দিন বাজারের মাতৃভান্ডার সবজির আড়তের ব্যবসায়ী হাজী আবদুল মুনাফ সওদাগর বলেন, খুচরা বাজারের বিক্রেতাদের অতি মুনাফার মানসিকতার কারণে পাইকারি বাজারে দাম কমার সুফল পাচ্ছে না সাধারণ ক্রেতারা। আজ শনিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার এবং চকবাজার কাঁচা বাজারের সাথে রেয়াজুদ্দিন পাইকারি বাজারের মধ্যে বিভিন্ন সবজির দামের বিস্তর ফাঁরাক। পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি ঢেড়স ৪০ টাকায় বিক্রী হলেও খুচরা বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ৮০ টাকায়। পাইকারি বাজারে পটল ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। বেগুণ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়, খুচরা বাজারে সে বেগুণ দ্বিগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। টমেটো পাইকারি বাজারে ৬৫-৭০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১২০-১৩০ টাকা। দেশি লাউইয়ের দাম পাইকারি বাজারে ১২-১৪ টাকা এবং খুচরা বাজারে ২৫ টাকা। একই ভাবে পাইকারি বাজারের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি দামে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে পেঁপেঁ, কাঁকরোল, চাল কুমড়া, বরবটি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, কাচামরিচ ও দেশি আলু ইত্যাদি। খুচরা বাজারে চাল কুমড়া বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২২ টাকায়, পেঁপে ২০ টাকা, কাকারোল ৭০ টাকা, বরবটি ৭৫ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৮০ টাকা, কাচা মরিচ ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬৫ টাকা, ঝিঙা ৭০ টাকা এবং দেশি আলু ৪৫ টাকা। রেয়াজুদ্দিন পাইকারি বাজারের আড়তদার রহমান এন্ড সন্স এর মালিক জামিলুর রহমান চৌধুরী বলেন, এখন যশোর থেকে প্রচুর কাচা শাক-সবজি বাজারে আসছে। দামও কিছুটা কমেছে। কিন্তু খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা অতি লাভের লোভে পড়ে দাম কমাচ্ছে না। তারা এখানের চেয়ে সবকিছু দ্বিগুণ বেশি দামে বিক্রি করে। বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে পাইকারি বাজারের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি দামে সবজি বিক্রির কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়, অর্ধেক দামে কেনা পড়লেও পরিবহন খরচ, লেবার খরচ, আনা নেওয়ার পথে কিছু সবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে হচ্ছে সবজি। তা না হলে পোষায় না। তবে চকবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বলেন, বৃষ্টির কারণে সবজির দাম কমছে না। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে বৃষ্টি কমতে পারে। তাতে অনেকটা কমে যেতে পারে সবজির দাম। তবে বৃষ্টি হলে দাম তেমন কমবে না। কারণ বৃষ্টিতে সবজি নষ্ট হয়ে যায়। চকবাজারে সবজি কেনার সময় আলাপকালে আজাদ (২৮) নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজার খরচের টাকা দিয়ে সবজি কিনলে চাল কেনা যায় না, চাল কিনলে সবজি কেনা সম্ভব হয় না। এভাবে খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের চট্টগ্রামের প্রতিনিধি জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, চালের মূল্য পাইকারি বাজারে ৬-৭ টাকা কমলেও খুচরা বাজারে কমেছে ১-২ টাকা। একইভাবে পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমলেও খুচরা বাজারে দ্বিগুণ। ফলের চালের মতো সবজির খুচরা বাজারেও বিরাজ করছে অস্বস্তি। অস্বস্তি কমাতে চাল ও সবজির খুচরা বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা জরুরী হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, চাল ও সবজির খুচরা বাজার মনিটরিং করছে জেলা প্রশাসন। এই দুই বাজারেই ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।