খেলাধুলা

২০১৯ বিশ্বকাপে বিসিবির প্রস্তুতি খরচের পরিমাণ কত?

একটা তথ্য দিয়ে শুরু করি, আজ থেকে ঠিক ২০ বছর আগে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে। এবং সেই বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়।

সেই বিশ্বকাপ শুরু অন্তত ২০দিন আগে ইংল্যান্ডে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, কয়েকটি ইংলিশ কান্ট্রি ক্রিকেট দলের সাথে খেলেছিলো প্রস্তুতি ম্যাচ। সব মিলিয়ে তখন বাংলাদেশে ক্রিকেটে বোর্ডের প্রায় ৮০ লাখ টাকা খরচ হয়েছিলো!

এবার প্রশ্ন হলো ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কি পরিমাণ খরচ হতে পারে। এই প্রশ্নের উত্তর সর্বস্তরের মানুষের কাছে নিঃসন্দেহে কোটি টাকার উপরেই হবে কিন্তু পুরাপুরি পোস্ট পড়ার পর আশাকরি আপনার ধারণা বদলে যাবে।

বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আয়ারল্যান্ডে ট্রাই-নেশন সিরিজ রয়েছে,যেটাকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে নেওয়া হয়েছে।এবং ওই সিরিজের পর বাংলাদেশ দল সরাসরি ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলতে চলে যাবে।

ট্রাই-নেশন সিরিজটা ৫মে-১৭মে পর্যন্ত চলবে, তাই বাংলাদেশ দল নিঃসন্দেহে অন্তত ৫/৬দিন আগে অর্থাৎ এপ্রিলের শেষ দিকে অথবা মে মাসের প্রথমেই আয়ারল্যান্ড এর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে।

সাধারণত,যে দেশে সিরিজ হয় সেইদেশের বোর্ডের তত্বাবধানে প্লেয়ারদের থাকা খাওয়া সহ সবধরনের সুযোগ এর ব্যাবস্থা স্বাগতিক দলেই করে থাকে। তাই ১৮ মে অফদি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সকল খরচ বহন করবে আইরিশ বোর্ড।

অন্যদিকে, আইসিসির সাপোর্ট সাধারণত শুরু হয় প্রস্তুতি ম্যাচের ৩-৪দিন আগে থেকে। যেহেতু প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু ২৫মে থেকে তাই ২২/২৩ তারিখ থেকে আইসিসির সাপোর্ট পাবে প্রতিটি টিম। অর্থাৎ ২২/২৩ তারিখ থেকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডের সকল প্লেয়ার টিম ম্যানেজমেন্টের থাকা খাওয়া,টীম বাস এর সকল খরচ আইসিসি বহন করবে।

তাহলে ১৮-২২/২৩ মে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কোথায় থাকবে এবং কাদের টাকায় এই ৪-৫দিন থাকবে??

বাংলাদেশ ১৮-২২/২৩মে এই ৪/৫ দিন আয়ারল্যান্ডে এ থাকা সম্ভাবনাটাই বেশি! এবং এই সময়ের যত খরচ সব বিসিবির বহন করতে হবে। তাতে ধারণা করা যায় সব মিলিয়ে ১০/১৫ লাখ টাকার উপরে খরচ হবেনা।

২২মে ইংল্যান্ড যাওয়ার কথা আছে সেদিন থেকে আইসিসির সাপোর্ট না পেলে নিজেদের টাকায় চলতে হবে। তারপর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ইচ্ছে করলে স্থানীয় টিমের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারে, তাহলে সেই ম্যাচ গুলোর খরচ বিসিবিকে বহন করতে হবে।।

এবার ফিরে আসি প্রথম প্রসঙ্গে, ২০ বছর আগে বাংলাদেশ দল যখন প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে সেখানে ৮০ লাখের মত টাকা খরচ হয়েছে! এখন ২০১৯ সালে এসে মাত্র ১০/১৫ লাখ টাকা খরচ হবে কেন??

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ দল ২০ দিন আগে ইংল্যান্ডে গেছিলো। এবং বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছিলো এবং নিজেরা টীম বাস ভাড়া করে রাখছিলো, এর সমস্ত খরচ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে বহন করতে হয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে আইসিসির থেকে তেমন কোনো সাপোর্ট ও পেতে না দলগুলো। সেক্ষেত্রে নিজেদের অর্থ খরচ করে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে হতো দলগুলোর।

শেষ একটা বিষয় নিয়ে অল্পকিছু বলে লেখা শেষ করবো। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্লেয়াররা ইচ্ছে করলে তাদের পরিবারের মেম্বারদের সাথে রাখতে পারবে। এমনটাই জানিয়েছে ক্রিকেট বোর্ডে উপরস্থ কর্মকর্তা আকরাম খান।

তার কথা অনুযায়ী, একটা নিদিষ্ট সময়ের জন্য রাখতে পারবেন প্লেয়াররা, খুব সম্ভবত নিজেদের খরচে দেশ থেকে তাদের নিয়ে যেতে হবে। এবং ইংল্যান্ড এ থাকা খাওয়ার খরচ বিসিবি বহন করবে।

যাইহোক, বাংলাদেশ ক্রিকেটের আরও উন্নতি হোক,বিশ্বকাপে ভালো করুক সেই শুভকামনা রইল।