খুলনা বিভাগ

হরিণাকুন্ডুতে রমরমা জুয়ার আসর ও অশ্লীল নৃত্য

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুর কুলবাড়ীয়া বাজারে বৈশাখী মেলার নামে চলছে রমরমা জুয়ার আসর ও অশীøল নৃত্য। এতে যুবকরা রীতিমত বেসামাল। চরকি, ওয়ানটেন ও ফোরগুটির মত নিষিদ্ধ রমরমা জুয়ার খেলা, স্বল্পবসনা যুবতীদের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির নৃত্যে যুবসমাজ বেসামাল হয়ে পড়ছে। মেলার ঐতিহ্য ভেঙে অশ্লীলতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সুশীল সমাজে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থলোভীরা মেলার নামে যাত্রা ও জুয়ার আসর বসিয়েছে। সমাজবিরোধী কাজ পরিচালিত হলেও নগদ নারায়নে তুষ্ট হরিণাকুন্ডু প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। জেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্রে জুয়া ও অশ্লীল যাত্রার অনুমতি না থাকলেও আয়োজকরা নীতি নৈতিকতা বির্সজন দিয়ে জুয়া ও যুবতীদের নিয়ে অশ্লিল নৃত্য করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকার অভিভাবক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়ে মানুষ ক্রমশ ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলবাড়িয়া বাজারে প্রতি বছর বৈশাখ বরণের নামে মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। ফলসি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের উদ্যোগে কুলবাড়ীয়া বাজারে মেলার অনুমোদন মিলেছে গত ২৬ এপ্রিল। মেলা হচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। কিন্তুু মেলার অনুমতি নিয়ে মুলত জুয়া খেলা তাদের মুল উদ্দেশ্য। উন্মুক্ত স্থানে চলছে জুয়া। ইছাহাক হাজীর বাড়ীর সামনে বসানো হয়েছে জমজমাট জুয়ার বোর্ড। সেখানে চলছে চরকি, ওয়ানটেন ও ফোরগুটির মত নিষিদ্ধ খেলা ।

আর এই জুয়ার আসরে ভিড় করছে উঠতি বয়সের স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, যুব সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। যেখানে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার জুয়া খেলা হয়। আবার অপরদিকে বসানো হয়েছে যাত্রা প্যান্ডেলের। বাইরে থেকে আসা জুয়াড়িদের ফূর্তির জন্য দেহ ব্যবসায়ীদের আনা হয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, যুবতী মেয়েদের অর্ধনগ্ন অবস্থায় মঞ্চে উঠে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গীতে নাচ পর্ণো ছবিকেও হার মানিয়েছে। মাইকের কানফাটা আওয়াজে আবাসিক এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলার উত্তর পশ্চিম অংশে হরিণাকুন্ডু, ইবি, আলমডাঙ্গা, কুষ্টিয়া সদর, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অন্তত ২০/২৫টি গ্রামের মানুষ এই জুয়ার আসরে অংশ গ্রহন করছেন ও নগ্ন নৃত্য দেখতে আসছেন। এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বাজার কমিটির তত্ত্বাবধানে মেলাটি পরিচালিত হচ্ছে। আয়োজক কমিটির সভাপতি কুলবাড়ীয়ার শামসুল ইসলাম জানান, প্রতি রাতে বিভিন্ন খাতে অনেক অনেক টাকা লাগে। তাই প্রতিটি খাতে টাকা দিতে জুয়ার বোর্ড বসানো হয়েছে। অনুমোদন থাকাকালীন কেউ এই মেলায় জুয়ার বোর্ড বন্ধ করতে পারবেনা। মেলা চললে জোয়ার বোর্ড চালাতে দিতে হবে। এ ব্যাপারে ফলসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান জানান, বেশাখী মেলার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। তবে জুয়া ও নগ্ন নৃত্যর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। হরিণাকুন্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ কে,এম শওকত হোসেন জানান, মেলায় জুয়া ও অশ্লীল নৃত্য চালালে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসন থেকে কুলবাড়িয়া বাজারে মেলার অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তবে জুয়া ও নগ্নতার বিষয়টি খুবই আপত্তিকর। মেলায় কোনো প্রকার জুয়া ও নগ্নতা চললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তিনি জানিয়েছেন। কুলবাড়ীয়ায় মেলায় চলা জুয়া ও নগ্নতা বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সাধারন মানুষ।