জাতীয়

সৈয়দ আশরাফের আসনে তফসিলে আজ ইসির বৈঠক

আওয়ামী লীগের সদ্যপ্রয়াত সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া কিশোরগঞ্জ-১ আসনের তফসিলের ব্যাপারে আজ বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়েও আজ সিদ্ধান্ত হবে। এমনকি বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল চূড়ান্ত করার পাশাপাশি তা ঘোষণাও হতে পারে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আজ। এটি কমিশনের ৪২তম সভা। এ সভায় চারটি বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে: সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল নির্ধারণ, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের তফসিল নির্ধারণ, উপজেলা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগের স্মারকলিপি বিষয়ে আলোচনা।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ৩ জানুয়ারি শপথ নেন। এখন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।কবে ইসি সূত্র আরও জানায়, পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের তফসিল আজ নির্ধারণ করার সম্ভাবনা নেই।

তবে কয়টি ধাপে, কবে থেকে নির্বাচন আয়োজন করা হবে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।গেলো ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮৮ আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট পায় ৭টি আসন। পরে স্থগিত হওয়া আরেকটি আসনে জয় পায় ধানের শীষ।৩ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মারা যান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার নিয়ে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৩ জানুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও তিনি চিকিৎসাধীন থাকায় শপথ নেওয়ার জন্য চিঠির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চেয়েছিলেন।সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা বাংলাদেশের মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। আশরাফুল ইসলাম একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মুজিব বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আব্দুল জলিল গ্রেপ্তার হলে  সৈয়দ আশরাফুল আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।