সারাদেশ

সুস্থ শিশুকে অসুস্থ বানিয়ে অন্য হাসপাতালে প্রেরণ ॥ দুই ডাক্তারের ফোনালাপ ফাঁস!

ছনি চৌধুরী,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি অরবিট হাসপাতালে চিকিৎসার নামে ডাক্তারদের অপকৌশলের স্বীকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষদের। অরবিট হাসপাতালের ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে আসা ভালো রুগীকে জীবনের ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়ে মৌলভীবাজার মামুন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন অরবিট হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.খায়রুল বাশার । মৌলভীবাজারের মামুন হাসপাতালের ডাক্তার বিশ্বজিৎ ও অরবিট হাসপাতালের ডা.খায়রুল বাশারের মোবাইল ফোনে আলাপে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য । গত শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে আলাপকালে ফোন আলাপের কথা স্বীকারও করেছেন ডাঃ খায়রুল বাশার । এঘটনায় উপজেলা শুরু হয়েছে তোলপাড় !
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,গত ৩১ আগস্ট উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের ফুলতলীর বাজার এলাকার রুবেল মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ৪০ দিন বয়সী শিশু ইসমত নাহার জিবার ঘন ঘন হেচকি’র কারণে জিবাকে নিয়ে স্থানীয় আউশকান্দি বাজারের অরবিট হাসপাতালে ডা. খায়রুল বাশারের শরণাপন্ন হন তার মা। সেদিন চিকিৎসক ঔষুধ দিয়ে দিলে জিবার পরিবার ফিরে আসেন। পরদিন শিশু জিবার কোনো উন্নতি না হলে আবারও
কথা বলেন চিকিৎসক ডা. খায়রুল বাশারের সাথে। এসময় ডা. খায়রুল বাশার শিশুটির অবস্থা আশংকাজনক উল্লেখ করেন। লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়েও অনেকে বাচ্ছা পায়না জানিয়ে টাকার দিকে না তাকিয়ে দ্রুত মৌলভীবাজারের মামুন হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন এবং সেখানে গিয়ে ডা. বিশ্বাজৎয়ের ফোন থেকে ডা. খায়রুল বাশারকে ফোন দেয়ার জন্যও বলেন পরামর্শ দেন তিনি। আর্থিক সঙ্গতি না থাকলেও শিশুর প্রাণ রক্ষার্থে দ্রুত মৌলভীবাজার ছুটে যান শিশুর মা শিরিন আক্তার। সেখানেই জিবার মা শিরিন আক্তারের মোবাইল থেকে ডা. বিশ্বজিতের সাথে কথা বলেন ডা. খায়রুল বাশার । কল রেকডিং এ বলতে শোনা যায় (হুবহু) ঃ Ñ
ডা.বিশ্বজিৎ ঃ দুলাভাই তোমার রুগী খুবই ভালা আছে কোনো সমস্যা নাই?
ডা. খায়রুলঃ শোন শোন হের মার সামনে মাতিস না,মা হচ্ছে হাইপারসেন্সেটিভ ভালাবুরা খওয়ার দরকার নাই রুগী খারাপ আছে চিকিৎসা কর !
ডা.বিশ্বজিৎ ঃ আইচ্ছা
ডা. খায়রুলঃ ভালা জীবনেও কইস না, ভালা জীবনেও কইস না আমি তো জানি ভালা !
মা হচ্ছে হাইপারসেন্সেটিভ তাই বলছি ভর্তি করান !
ডা.বিশ্বজিৎ ঃ হ্যা তারা থাকবো অপজারবেশনে থাকবো !
ডা. খায়রুলঃ ইনশেকশন টিনশেকসন মার নাইলে শান্তি অইতো না !

পরে সম্পুর্ণ সুস্থ জিবাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন তিনি ডা. বিশ্বজিৎ। সে অনুযায়ী রাতে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় জিবাকে। পরে বিষয়টি আঁচ করতে পারেন জিবা’র মা। তাই পরদিন ক্লিনিক থেকে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু জীবন রক্ষা যাদের কাজ, তাদের একজনের এমন কাজে তিনি বিষ্মিত। ডা. বাশার ইচ্ছাকৃত ভাবে এমনটি করেছেন জানিয়ে শিশু জিবা’র মা শিরিনা বেগম জড়িত ডাক্তারের শাস্তির দাবী জানান । এদিকে ডা. খায়রুল বাশার ডা. বিশ্বজিৎয়ের সঙ্গে ফোন আলাপের কথা স্বীকার করে তিনি জানান আমি হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন মাত্র আমরা সাধরাণত যেকোনো রুগীকে ১-২দিন অবজারবেশনে রাখি। ডা. এএইচএম খায়রুল বাশার গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কনসালটেন্ট পদে কর্মরত রয়েছেন । এব্যাপারে ডাক্তারদের নৈতিকতার বিষয়ে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ কামাল আহমদ বলেন মোবাইল ফোনে যে আলাপ হয়েছে তা চিকিৎসতার নৈতিকতা বিবর্জিত। এদিকে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মনেও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। চিকিৎসকদের এমন আচরণ কোনভাবেই কাম্য নয় । এঘটনায় জড়িত ডা. খায়রুল বাশারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন জিবার পরিবার ।