জাতীয়

‘সরকার থেকে তফসিলের তারিখ পেছানোর চাপ নেই’

বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবদুল মান্নান বলেছেন, নির্বাচন কমিশন আমাদের জানিয়েছে, সরকার থেকে তফসিলের তারিখ পেছানোর ব্যাপারে চাপ নেই।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, কমিশন আমাদেরকে জানিয়েছে, সরকার থেকে তফসিল পেছানোর জন্য কোনো চাপ নেই। চাপ দিলেও তফসিল পেছানো সম্ভব নয়। ৮ নভেম্বরই তফসিল ঘোষণা করা হবে।

আবদুল মান্নান বলেন, জাতি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন বিলম্ব হলে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। এ শূন্যতায় অন্য কোনো শক্তি ক্ষমতায় চলে আসতে পারে। তাই আমরা যথাসময়ে নির্বাচন করার জন্য বলেছি।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে পুলিশিং জব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি। কারণ, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োগ দিলে তাদের কিছু করার থাকে না। আমরা প্রতি কেন্দ্রে ৪ থেকে ৫ জন সেনা সদস্য নিয়োগ করতে বলেছি। কমিশন বলেছে, এত সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি যে, এই নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য চেষ্টা করবে।

সংসদ বহাল রেখেও নির্বাচনে সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মত দেন যুক্তফ্রন্টের নেতারা।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কাছে যুক্তফ্রন্ট একটি লিখিত বক্তব্য দেয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, সমস্ত জাতি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা অকারণে বিলম্ব হলে জাতির মধ্যে সংশয়, বিভ্রান্তি ও হতাশার সৃষ্টি হবে, যা কোনোক্রমেই কাম্য নয়। যাতে কোনো রকম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব না হয়, সেটা দেখা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। জনগণের এই সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবির প্রতি যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ সমর্থন রয়েছে। সরকার বা অন্য কোনো জোটের চাপ বা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করলে নির্বাচন কমিশন মাথা নত করবে না, এটা যুক্তফ্রন্ট ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

এ সময় তারা কিছু দাবিও উল্লেখ করেন। দাবিগুলো হচ্ছে- নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর শতভাগ মাননীয় রাষ্ট্রপতির অধীনে থাকবে, নির্বাচনের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কর্মচারীদের নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ করতে হবে, তফসিল ঘোষণার পর এমপিগণ সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো প্রকল্প উদ্বোধন/প্রতিশ্রুতি যাতে না দিতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, মন্ত্রী ও এমপিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করতে হবে, সরকারি দলের প্রার্থীদের বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব ও যুক্তফ্রন্ট নেতা আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন- বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম সরোয়ার মিলন, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, যুক্তফ্রন্ট নেতা মাজহারুল হক শাহ চৌধুরী, বিকল্পধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, বিকল্পধারার সহ-সভাপতি মাহমুদা চৌধুরী।