বিনোদন

শৈশবে যৌন নিপীড়ন ও কৈশোরে ধর্ষণের শিকার এই বিশ্বসুন্দরী

লুইজিয়ানার ব্যাটন রুজে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় মিস ইউএসএ-২০১৫ খেতাব জয় করা অলিভিয়া জর্ডান ইনস্টাগ্রামে বোমা ফাটালেন। শিশু বয়সে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর কৈশোরে ধর্ষিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আমেরিকার আলাবামা সম্প্রতি তাদের গর্ভনিরোধক আইন পাসের পর এমন কথা জানান এই বিশ্বসুন্দরী।

এই আইন তার জন্য এবং তার মতো পরিস্থিতির শিকার হওয়া মেয়েদের ওপর রীতিমতো নতুন আঘাত হয়ে এসেছে মন্তব্য করে অলিভিয়া বলেন, আমি নতুন নীতিমালা সূক্ষ্মভাবে দেখেছি। এটা নারীদেহের ওপর সরাসরি আঘাত। এক্ষেত্রে আমার সম্মতি ছাড়াই আমাদের দেহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। বহু বছর আগে যে কারণে আমার দেহ ও মন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেই ট্রমা থেকে আমি এখনো বেরিয়ে আসতে পারিনি। অপরাধের বিচারে ধর্ষণ করা এবং গর্ভপাত একই তালিকায় পড়তে পারে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, এই আইনও একই ধরনের।

এই আমেরিকান বিউটি কুইন আরও বলেন, যে মানুষগুলো গর্ভনিরোধী বার্তা দিতে চাইতেন তাদের রীতিমতো ভয় পেতাম আমি। অতীতের এ ধরনের অভিজ্ঞতাই আমাদের মানসিকতা তৈরি করে দিয়েছে। গর্ভনিরোধী বার্তা আসলেই আমি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়তাম। ওই সময়টাতে আমার যেমন লেগেছিল তা ভেবে আমি এখনো আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি।

আমি জানতে চাই গর্ভপাত কেন আপনার কাছে ভীতিকর? একটি ক্যাথলিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। যৌন সংক্রান্ত শিক্ষা অর্জনে আমাদের নিরুৎসাহিক করা হয়। আমি গর্ভপাতের প্রক্রিয়াটি দেখেছি। এ বিষয়ে আমি গবেষণা করেছি, যোগ করেন বিশ্বসুন্দরী।

তবে অলিভিয়া তার এই মতামত ও বিশ্বাস অন্যের ওপর চাপাতে চান না। তবে তার আশা, যারা গর্ভপাত নিরোধ আইনের বিপক্ষে তারাও একই চিন্তা করবেন।

অলিভিয়া চান না এমন অসহনীয় পরিস্থিতিতে অন্য কোনো নারী পড়ুক যাতে তিনি পড়েছেন। তিনি নারীদের এই আইন নিয়ে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু তার অনুরোধ, কেউ যেন আইনের সমর্থনে সোচ্চার না হয়।

যখন নারীরা নিজেদের অনুমতি ব্যতিরেকে পুরুষদেরই নারীদেহ নিয়ে আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত দেয়, তখন আমি নিজেই বার বার মানসিক আঘাতের শিকার হই, বলেন অলিভিয়া।