ময়মনসিংহ বিভাগ

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দুর্ভোগের আরেক নাম বনগাঁও-আহমদনগর রাস্তা

এসএ সুজন শাহী, শেরপুর : শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দুর্ভোগের আরেক নাম বনগাঁও-আহমদনগর রাস্তা। উপজেলার বনগাঁও বাজার থেকে চতল গ্রাম হয়ে সদর ইউনিয়নের আহমনগর পর্যন্ত প্রায় ৫ কি.মি. রাস্তা। জানা যায়, উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বনগাঁও বাজার থেকে আহমদ নগর পর্যন্ত রাস্তাটি নির্মাণের দাবি ওঠে দেশ স্বাধীনের পর থেকেই। আহমদনগর গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, গৌরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মন্টু, চতল গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মন্ডল, সাবেক ইউপি সদস্য চাঁন মিয়াসহ গ্রামবাসীরা জানায়, রাস্তাটি নির্মাণের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আশ্বাসও পাওয়া যায়। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ রাস্তা দিয়ে জিগাতলা, বনগাও, সুরিহারা, হাতিবান্দা, রামনগর, চতল, আহমনগর, দিঘীরপাড়, হলদিবাটা ও মাটিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের শতশত মানুষ চলাচল করে থাকে। এখানে রয়েছে ১টি কলেজ, ২টি উচ্চ বিদ্যালয়, ২টি দাখিল মাদরাসা ও ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছরেও এ রাস্তাটি সংস্কার, সম্প্রসারণ কিংবা পাকাকরণ করা হয়নি। এ রাস্তায় প্রতিদিন কোমলমতি শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের ও শ্রেণি-পেশার শতশত মানুষের যাতায়াত। গ্রামবাসীরা জানায়, এ রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে যানবাহন তো দূরের কথা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। শুষ্ক মৌসুমে যেমন-তেমন, বর্ষা মৌসুমে পথচারীদের দূর্ভোগের সীমা থাকেনা। ৫ কি.মি. রাস্তায় ৪টি খাল ও ১টি নদী রয়েছে। ২০১৭ সালে একটি ভাঙ্গা অংশে ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অর্থে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হলেও দুপাশে মাটি ভরাটের অভাবে তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। অন্যান্য স্থানে আজো নির্মিত হয়নি ব্রীজ কালভার্ট। খালগুলোর উপর বিভিন্ন সময় কাঠের সেতু নির্মাণের অজুহাতে হয়েছে সরকারী অর্থ লুটপাট। দীর্ঘদিন পূর্বে ২টি ভাঙা অংশে কাঠের সেতু ও ১টিতে বাঁশের সাকো নির্মাণ করা হলেও তা চলাচলের অনুপযোগী। জরাজীর্ণ এসব বাঁশের সাকোর উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে শিশু-কিশোরসহ পথচারীরা। রাস্তার বেহাল দশার কারণে কৃষকরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারছে না। রাস্তাটি ১০ গ্রামের মানুষের সীমাহীন কষ্ট আর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা রাস্তাটির বেহাল দশার কথা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় বিভিন্ন সময় আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু কোন কাজে আসেনি। উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, রাস্তা ও ভাঙ্গা অংশে ব্রীজ নির্মাণের জন্য উপর মহলে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই রাস্তাটির নির্মাণ কাজ করা হবে।