আজকের সেরা সংবাদ

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর বিশ্ব মিডিয়ায়

বাসচাপায় রোববার দুই সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারও ঢাকার রাজপথে বিক্ষোভ করছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের খবর প্রকাশ করেছে।জার্মানির আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সংস্থা ডয়েচ ভ্যালে তার বাংলা সংস্করণে ছাপা হওয়া এক প্রতিবেদনে বলেছে, ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে ২৯ জুলাই জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে। এরপর ফুঁসে ওঠে স্কুল-কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা৷ সহপাঠীর এই নির্মম মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজপথ দখল করে নেয় তারা।

ইরানের সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের বাংলা সংস্করণ ‘বৃষ্টি মাথায় ঢাকার রাজপথে শিক্ষার্থীরা, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে আজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর মৌচাক, আসাদগেট, মতিঝিল, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, শাহবাগ মোড়, মিরপুর, শনির আখড়া, উত্তরার হাউস বিল্ডিং, বিমানবন্দর এলাকায় শিক্ষার্থীদের রাস্তায় জড়ো হতে দেখা যায়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে।

বিবিসি বাংলা বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, গত তিনদিন ধরে চলমান ছাত্র বিক্ষোভ সামাল দিতে বৃহস্পতিবার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি বলে মনে হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের ইংরেজি দৈনিক স্ট্রেইট টাইমস ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর সম্পর্কে লিখেছে, প্রায় ৩ হাজার ইউনিফর্ম পরা স্কুল শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়। তারা স্লোগান দেয়, আমরা ন্যায়বিচার চাই। তাদের একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, আমার ভাই কেন কবরে, খুনিরা কেন ঘুরে বাইরে?বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কথাও তুলে ধরেছে স্ট্রেইট টাইমস। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সড়কে নজরদারীতের অভাব ভয়াবহ। গণপরিবহন প্রায়ই চালানো হয় অনভিজ্ঞ, লাইসেন্সবিহীন ও অল্পবয়সী চালক দ্বারা।

একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ৪ হাজার ২০০ জন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। যা ২০১৬ সালের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি।তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনদালু এজেন্সি বুধবার এক প্রতিবেদনে জানায়, রাজধানী ঢাকাজুড়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চালকের গ্রেপ্তারের দাবি করছে তারা।

চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া লিখেছে, বুধবার সহপাঠী নিহতের ঘটনায় ঢাকায় সড়কে নেমেছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। আগের তিনদিনের মতোই শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। সরকার দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। এতে বলা হয়, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, আন্দোলনকারীদের বেশিরভাগই ১৩-১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। তারা সরকারের এক মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন তার মন্তব্যের জন্য। একই সঙ্গে তারা সড়ক নিরাপদ করার দাবি তুলে ধরেছে।