রংপুর বিভাগ

রাজারহাটে স্কুল শিক্ষক মনিবুলের লটকন চাষে সাফল্য

এ.এস.লিমন, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ শখ করে ৪-৫ বছর পূর্বে স্কুল শিক্ষক মনিবুল হক বসুনীয়া (৪৪) শিক্ষকতার পাশাপাশি লটকন চাষে ঝুঁকে পড়েন। প্রথমে ৬০টির মতো উন্নত জাতের লটকনের চারা ক্রয় করে তার সুপারি বাগানে লটকনের চাষ শুরু করে দেন। ৩-৪ বছর যেতেই গাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে লটকন আসতে শুরু করে। এতে করে তিনি উজ্জীবিত হয়ে পরবর্তীতে আরও শতাধিক লটকনের চারা রোপন করেন। এ বছর তার লাগানো ৫১টি গাছে প্রচুর পরিমাণে লটকন এসেছে। সরজমিনে রোববার বিকালে রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউপির সুখদেব গ্রামের ছবির উদ্দিন বসুনীয়ার পুত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লটকন চাষী মনিবুল হক বসুনীয়ার বাগানে গিয়ে দেখা যায় প্রতিটি গাছে দেড় থেকে দুই ফুট গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত থোকায়-থোকায় লটকন ঝুঁলছে। এ সময় তিনি এ প্রতিনিধিকে বাগান করার শখ কিভাবে এলো তা জানাতে শুরু করেন। আনুমানিক ১০-১২ বছর পূর্বে উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউপির কদমতলা এলাকায় তিনি তার এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যান। ফেরার সময় পথিমধ্যে একটি বাড়ির সুপারির বাগানে দেখতে পান লটকন গাছে থোকায় থোকায় লটকন ঝুঁলছে। এ থেকে তার মাথায় লটকন চাষের আগ্রহ আসে। এরপর বাড়িতে ফিরে তার সুপারি বাগানে লটকন চাষের জন্য প্রস্তুতি নেন। ৪-৫ বছর পূর্বে তিনি এক পরিচিত নার্সারীর মালিকের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রথম দফায় ৬০টি লটকনের চারা রোপন করেন। এর মধ্যে ৯টি চারা মরে যায়। গত বছর থেকে বাগানে লটকন আসতে শুরু করে। এ বছর প্রচুর পরিমাণে লটকন এসেছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই ৫০ হাজার টাকার লটকন বিক্রি করেছি। আশা করছি, কমপক্ষে আরও ৭০-৮০ হাজার টাকার লটকন বিক্রি করতে পারবো। স্কুল শিক্ষক মনিবুল হক বসুনীয়া ইতিমধ্যে তার পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোতে নিজেই শ্রমিক নিয়ে লটকনের চারা ক্রয় করে এনে লাগিয়ে দিয়ে তাদেরকে উৎসাহী করে তোলার কথা জানান। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এই গ্রামটিকে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষে সকলকেই উদ্বুদ্ধ করছি। এলাকার বাইরেও যেন লটকনের ওই গ্রামকে চিনেন মানুষজন। ওইসব চারা রোপনের পর অনেকে তাকে টাকাও দিচ্ছেন। কেউ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি তাদেরকে বলছেন ২-৩ বছর পর গাছে লটকন এলে তা বিক্রি করে আমাকে টাকা দিয়েন। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে স্কুল শিক্ষক লটকন চাষী মনিবুল হক বসুনীয়া ৫ম। তিনি সব সময় প্রাকৃতিক ফল-মুল খেতে বেশ নিজেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। শিক্ষক মনিবুলের এ কর্মকান্ড দেখে পার্শ্ববর্তীরাও মুগ্ধ।