রাজশাহী বিভাগ

রাজশাহীতে শিলাবৃষ্টি নাকি তুষারপাত

বরফের চাদরে ঢেকেছে রাস্তা, উঠান আর মাঠ। দেখে মনে হয় এ যেন আমেরিকা, লন্ডন, কাশ্মীর, সিকিম কিংবা সুইজারল্যান্ডের কোনো এলাকা! তবে এ চিত্র রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার। এ অঞ্চলের মানুষ জন্য এমন চিত্র একেবারে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। শনিবার রাত থেকে এ অঞ্চলে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়। হতে থাকে বজ্রপাতও। রোববার ভোর ৪টা ৪০ মিনিট থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত শিলা বৃষ্টি হয়। এতেই তৈরি হয় এমন চিত্র।শিলা বৃষ্টির আঘাতে পুরো রাজশাহীতে আমের মুকুলসহ পুঠিয়ায় ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে গোদাগাড়ী, তানোর, পবা, পুঠিয়া, চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে মুকুল ঝরে পড়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রোববার ভোর ৫ টার দিকে হালকা ঝড়ো হাওয়ার সাথে শিলা বৃষ্টি হয় ওই এলাকায়। আর তাতেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই শিলাবৃষ্টির জেরে বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ার খবর মিলেছে। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধোপাপাড়া ও ভাংড়া এলাকায় ফসল। তার মধ্যে পেয়াঁজ, রসুন, বেগুন, আমের মুকুল, শশা সহ আরও অনেক কৃষি ফসলের ক্ষতি হয়।উপজেলার ধোপাপাড়া, চক পালাশি, নকুলবাড়িয়া, সৈয়তপুর, ভাংড়া, আগলা, পালোপাড়া এলাকাতেই ফসলের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছে পুঠিয়া কৃষি অফিস।আবহাওয়া অধিপ্তরের তথ্য মতে, পর্শ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে তাই এমন শিলাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়েছে।শনিবার থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত রাজশাহী অঞ্চলে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এছাড়া বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪ কিলোমিটার। পাশাপাশি তাপমাত্রা এক ধাক্কায় নেমে গিয়েছে অনেকটা। তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২৬.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে সর্বনিম্ন ১৩.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে।আবহাওয়া অধিপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় লঘুচাপের প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।