আজকের সেরা সংবাদ

মহান বিজয় দিবস আজ

আজ মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি হচ্ছে বাঙালি জাতির জীবনে চির অম্লান, চির স্মরণীয়; দিনটি গর্ব আর অহঙ্কারের। কেননা এদিন আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। এই দিনটি ছিল বলেই পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম খচিত হয়।

১৯৭১ সালে যুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল পাকিস্তানিদের যে দোসররা তাদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১০ সালে এবং প্রথম সারির অপরাধীদের সাজার মুখোমুখি ও দণ্ড কার্যকরের ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষে আস্থার জায়গা খুঁজে পেয়েছে। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের পরও অপরাধীদের দম্ভ চূর্ণ করে দায়মুক্তির ঘটনায় দেশ নিয়ে, দেশপ্রেমের শক্তি নিয়ে এ প্রজন্মের অহঙ্কারের জায়গা আরও বিস্তৃত হয়।

৪৭ বছর আগে এই দিন ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী হাতের অস্ত্র সমর্পন করে বীর বাঙালির সামনে। স্বাক্ষর করে তারা পরাজয়ের সনদে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল হানাদাররা।

স্বাধীনতা অর্জিত হলেও গত ৪৭ বছর বাঙালি জাতির চলার পথ মসৃণ ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ার প্রক্রিয়ায় হঠাৎই সামনে চলে এসেছে কখনও সামরিক শাসন, কখনও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম।

মুক্তিযোদ্ধা, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বলছেন, এবারের বিজয় দিবস স্বতন্ত্র। অনেকগুলো প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ায় অনেক প্রশ্নের জবাবও পেয়েছে জাতি।

সবদিক থেকেই এবারের বিজয় দিবসকে স্বতন্ত্র মনে করেন সৈয়দ হাসান ইমাম। তিনি বলেন, ‘এবারের বিজয় দিবস স্বতন্ত্র কারণ আমাদের বিস্মিত করে কিছু মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। এদের সামনে রেখে জামায়াত নির্বাচনের যে কৌশল নিয়েছে সেখানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারকরা যেন ক্ষমতায় আসে সেই লড়াইয়ের সময় এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, উন্নয়নের ধারা যেন অব্যাহত থাকে সে জন্য এই লড়াই। ’৭০-এ ব্যালট যুদ্ধ হয়েছিল। এরপর ১৯৭১ সালে সেই অধিকার না পাওয়াতে যুদ্ধ করতে হয়। এখন আবারও ব্যালটের যুদ্ধে নামার সময় এসেছে সেই শপথ নিয়েই।’

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ড. এম হাসান বাংলা বলেন, ‘কারা মুক্তিযোদ্ধা আর কারা মুক্তিযোদ্ধা না— সেই জায়গায় আমাদের জানা-বোঝার ঘাটতি আছে। ফলে যারা জামায়াতের সঙ্গে যাচ্ছে তারা কি আদৌ মুক্তিযোদ্ধা? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ না করে কেবল যুদ্ধ করলেই কি মুক্তিযোদ্ধা হওয়া যায়?’

ড. হাসান আরও বলেন, ‘আমরা বিজয় দিবসের তাৎপর্য কতটা অনুধাবন ককরতে পেরেছি সেটা মুখ্য প্রশ্ন হতে পারে। যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল তারা চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে করেছিল নাকি একটা নির্দিষ্ট পরিপ্রেক্ষিতে, প্রেক্ষাপটে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল সে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।’

এসব ভাবনা নিয়েই আজ সকাল থেকে সারাদেশে পথে নামবে উৎসবমুখর মানুষ। শহীদদের স্মরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধায় নত হবে মাথা, স্মৃতিসৌধ ভরিয়ে দেবে ফুলে ফুলে। পতাকায় সজ্জিত হবে রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক।

বিজয়ের মাসের শুরু থেকেই লাল-সবুজ পতাকা উড়ছে বাড়িতে ও গাড়িতে। আজ স্বাধীনতাকে অনুভবের আনন্দের দিন। আজ বিজয়ের আনন্দে লাখো শহীদ, বীর ও বীরাঙ্গনাদের শ্রদ্ধা জানানোর দিন।