আজকের সেরা সংবাদ

মধ্যরাতে পুলিশি অভিযানে বেঁচে ফিরল তরুণী

মধ্যরাতে তিন ঘণ্টার অভিযানে ভোর চারটার দিকে জঙ্গল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় অপহৃত এক তরুণীকে। ভুক্তভোগী তরুণীর মামা জহিরুল ইসলাম জানান, তার বোন জামাইয়ের বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিনাপুর এলাকায় এবং তার বাড়ি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ এলাকায়। বোন জামাই খুব অসুস্থ তাই মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ২ দিন আগে। বোন জামাইয়ের সঙ্গে ভাগনিও হাসপাতালে ছিলেন। শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাতে তিনি ক্লান্ত ভাগনিকে নানা বাড়িতে চলে যেতে বলেন এবং তিনি নিজে বোন জামাইয়ের পাশে থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।

রাত ১০টার দিকে ভাগনিকে একটি গাড়িতে তুলে দেওয়ার জন্য মামা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের গেটে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় একটা প্রাইভেটকার আসে। প্রাইভেটকার ভৈরব বাজারের দিকে যাবে। কারটি থামে এবং ড্রাইভার জানান, তিনি লোকাল যাত্রী নিয়ে যাচ্ছেন এ সময় গাড়ির পেছনে যাত্রী বেশে একজন বসা ছিলেন। মামা জহিরুল ইসলাম ৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে ভাগনিকে প্রাইভেটকারে তুলে দেন। ভাগনিকে গাড়িতে তুলে দিয়ে মামা যখন হাসপাতালে বোন জামাইয়ের কাছে ফিরে যান। তার কিছু সময় পর মেয়েটির নম্বর থেকে মামাকে কল করে বলে ‘আমাকে বাঁচাও আমাকে ড্রাইভার নামিয়ে দিচ্ছে না, আমাকে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে।’

এ সময় মামাকে লাইনে রেখে ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে মেয়েটা বলতে থাকে ‘আল্লাহ’র দোহাই আমাকে নামিয়ে দেন, আমার আব্বা হাসপাতালে মারা যাবে যদি আমার কিছু হয়।’ এর পরপর লাইন কেটে যায় এবং মেয়েটির নম্বর বন্ধ হয়ে যায়। জহিরুল ইসলাম কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সব দিকে ছোটাছুটি করছেন।

এমন সময় উনার পরিচিত একজন সাহায্যের জন্য এক সাংবাদিকের মোবাইল নম্বর দেন। এবং তিনি ঘটনাটি জানান। ঘটনার বিবরণ জেনে ওই সাংবাদিক মধ্যরাতে বিষয়টি মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলামকে জানালে তিনি বিষয়টি জেনে সাথে সাথে ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ করে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে মধ্যরাতেই অভিযান শুরু করেন। প্রায় ৩ ঘণ্টার অভিযানে (রাত ৪টার দিকে) কমলগঞ্জ উপজেলায় দেওড়াচরা চাবাগান থেকে মেয়েটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় গাড়িটি আটক করেন। তবে ৪ জন অপহরণকারী পালিয়ে যায় তাদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটির ভাগ্য ভালো যে ঠিক সময় তথ্য পেয়েছিলাম। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে বুঝতে পারছি তাকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তারা চা বাগানে নিয়ে এসেছিল। প্রথমে গাড়িতে ২ জন থাকলেও পরে আরও ২ জন যুক্ত হয়। ৪ জন মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে হয়তো মেরে ফেলত। ঘটনাস্থলে মদের আলামত মিলেছে। পুলিশের গাড়ির উপস্থিতি বুঝতে পেরে ৪ অপরাধী পালিয়েছে। তবে প্রাইভেটকারটি আটক করা হয়েছে এবং মেয়েটিকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছি। অভিযুক্তদের দ্রুত আটক করা হবে।’ এ ঘটনায় সকালে মামলা হবে বলে তিনি জানান।

SHARE