আর্ন্তজাতিক

ভারতে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১১

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে এক মুসলিম যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে দুই পুলিশকর্মকর্তাকে। তারা হলেন: চন্দ্রমোহন ওঁরাও ও বিপিন বিহারী।

ওই পুলিশ কর্মৎকর্তারা যথাসময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়া এবং কর্তৃপক্ষকে ঘটনার গুরুত্ব বোঝাতে না পারায় তাদের বরখাস্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

চোর সন্দেহে তবরেজ আনসারি নামের ওই যুবককে বৈদ্যুতিক থামের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। পাশাপাশি তাকে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’বলানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই অত্যাচারের জেরে চব্বিশ বছর বয়সি ওই যুবক পরে মারা যান। ভারতের পূর্বাঞ্চলী ২৪ বছর বয়সী তাবরেজ আনসারি নির্যাতিত হওয়ার কয়েকদিন পর মারা যান। তাবরেজ আনসারির বিরুদ্ধে মোটর সাইকেল চুরির অভিযোগ এনে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

নিহত যুবক তবরেজ আনসারি পুণেতে দিনমজুরের কাজ করতেন। ইদের ছুটি কাটাতে গ্রামে এসেছিলেন। পরিবার তার বিয়ে ঠিক করেছিলো। গত ১৮ জুন অন্য দুই যুবকের সঙ্গে জামশেদপুরে যাচ্ছিলেন তবরেজ। ঝাড়খণ্ডের খারসাওয়ান দিয়ে যাওয়ার সময় চোর সন্দেহে বেশ কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে। সুযোগ বুঝে দুই সঙ্গী পালিয়ে যায়। উন্মত্ত জনতার ধর্মীয় রোষের শিকার হন তবরেজ।

তারা তাকে সমানে পেটাতে থাকে, কেউ লাঠি আবার কেউ বা হাত দিয়ে। আক্রমণকারীদের কাছে কাকুতি মিনতি করলেও কোনও লাভ হয়নি। একটানা প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে এভাবেই তবরেজের উপর চলে অকথ্য অত্যাচার। মারধরের পাশাপাশি তবরেজকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতেও বাধ্য করা হয়।

পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয় তাকে। গত শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তবরেজকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সেখানেই প্রহৃত ওই মুসলমান যুবকের মৃত্যু হয়। তাবরেজের পরিবারের অভিযোগ, আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পরও পুলিশ তাকে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করেনি।

প্রসঙ্গত, মোদির দেশে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ওপর ধর্মান্ধ হিন্দুদের এ ধরনের নির্যাতন কোনো নতুন ঘটনা নয়। কখনও গোরক্ষার নামে, কখনও বা জঙ্গি দমনের নামে তারা মুসলিমদের ওপর চড়াও হয়ে থাকে। কেবল ঝাড়খণ্ড রাজ্যেই গত ৩ বছরে ১৩ মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

সূত্র: আনন্দবাজার