হেড লাইন

বুলবুলের আঘাতে প্রাণহানি কম, ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক

শনিবার (৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’। বুলবুলের আঘাতে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে শনিবার রাত ৩টার দিকে বুলবুলের আঘাতে হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান জানান, ঝড়ের কারণে উপজেলার গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে প্রায় ৫ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৭-৮ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খুলনা: ঘূর্ণিঝড়ে খুলনায় তিন হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কয়রা উপজেলায় ১ হাজার ৫০০ এবং দাকোপ উপজেলায় ১ হাজার ৭৬৫টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া দাকোপ উপজেলায় ৩১৫টি চিংড়ির ঘের ও ৪২৫টি পুকুর ভেসে গেছে। জেলা কন্ট্রোল রুমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।

রামগতি (লক্ষ্মীপুর): ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র আঘাতে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে অর্ধশত বসতঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোববার সকালে আঘাত হানা এ ঝড়ে গাছ ও ঘরের নিচে চাপা পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। মারা গেছে একটি গবাদি পশু। এছাড়াও ঝড়ের আঘাতে দেড় শতাধিক কাঁচাঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়। চর আব্দুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ তার ইউনিয়নের চরগজারিয়া ও তেলিরচরে আঘাত হানে। এতে আনোয়ার, নুরমোহাম্মদ, মোস্তাফিজ, নুর ছলেমন, আবদুর রশিদ ও নুর করিমের বসতঘরসহ ৪৬টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়সহ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেড়শতাধিক কাঁচাঘর। উপড়ে পড়ে অসংখ্য গাছ-পালা। এ সময় গাছ ও ঘরের নিচে চাপা পড়ে চেয়ারম্যান বাজার এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে মো. জসিমসহ (২৫) অন্তত ১২ জন আহত হন। আহতদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চর গজারিয়া (লক্ষ্মীপুর): লক্ষ্মীপুরের চর গজারিয়ায় ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের’ আঘাতে গাছ উপড়ে প্রায় শতাধীক বসতঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসময় নারী-পুরুষসহ ১০ জন আহত হয়েছে। জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, জেলার দুর্গত মানুষের জন্য ৪৫০ মে. টন চাল, নগদ টাকা ও পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুদ রাখা হয়েছে।

নাজিরপুর (পিরোজপুর): ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র তাণ্ডবে পিরোজপুরের নাজিরপুরে বসতঘরের ওপর গাছ পড়ে একই পরিবারের দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়াও উপজেলায় সহশ্রাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি অসংখ্য গাছপালা উপড়ে ও ভেঙে পড়েছে বলে জানিছেয়ে কন্ট্রোল রুম। উপজেলা কৃষি অফিসার দিগ বিজয় হাজরা জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডকে উপজেলায় কৃষকদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

কালিয়া (নড়াইল): ঘূর্নিঝড় বুলবুলের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে নড়াইলের কালিয়ার জনপদ। রোববার সকালে প্রবল বেগে বয়ে যাওয়া ওই ঝড়ে উপজেলার পূবাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রামগুলোর অসংখ্য গাছপালা ও বহু কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়াসহ প্রায় ৫ হাজার একর জমির রবি ফসল সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে ইউপি চেয়ারম্যানরা কাজ করছেন।

পাথরঘাটা (বরগুনা): বরগুনার পাথরঘাটায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এসময় ঘরের নিচে চাপা পড়ে ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হাজার হাজার গাছপালা ভেঙে পড়েছে। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধসহ বিদ্যুত ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার সহস্রাধিক ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। এ ছাড়া গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করছি।