জাতীয়

বিজিবি-বিজিপির সীমান্ত সম্মেলনে ইয়াবা নিয়ে উদ্বেগ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সিনিয়র পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার (৯ জুলাই) শুরু হওয়া এ সম্মেলন আজ বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) শেষ হয়েছে।

সম্মেলনের পূর্বনির্ধারিত আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে মাদকদ্রব্য বিষয়ে বিশেষ করে ইয়াবার ব্যাপকতা নিয়ে উভয় পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যুব সমাজের উপর মাদক বিশেষ করে ইয়াবার ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে পরস্পরকে সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে সম্মত হন তারা। মিয়ানমারের পক্ষ হতে বৈঠকে অবহিত করা হয় যে, তাদের দেশেও একই সমস্যা বিরাজ করছে এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সীমান্তে ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

সীমান্তে আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির বিষয় উল্লেখ করে সম্প্রতি মিয়ানমারের নাগরিকদের সীমান্ত অতিক্রমসহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

একই সাথে সীমান্তের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরণের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ প্রেক্ষিতে মিয়ানমারের পক্ষ হতে জানানো হয় যে, এ ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সীমান্তে মাদক, অস্ত্র, নারী ও শিশু পাচারসহ সবধরণের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সমন্বিত যৌথ টহল, সীমান্তে নজরদারি ও অন্যান্য তৎপরতা বৃদ্ধি, উভয় পক্ষের মাঠ পর্যায়ের অধিনায়কদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় পরস্পরের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছেন।

সীমান্তে মাইন/আইইডি অপসারণ প্রসঙ্গে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার।

উভয় পক্ষই বর্ডার লিয়াজোঁ অফিসের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এ প্রসঙ্গে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, মংডুতে ইতোমধ্যে একটি বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ হতে জানানো হয় যে, টেকনাফ উপজেলায়ও অনুরূপ একটি বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা হয়েছে যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

সম্মেলনে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অপরদিকে, পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো থানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের মিয়ানমার প্রতিনিধিদল অংশ নেন। মিয়ানমার প্রতিনিধিদলে মিয়ানমার পুলিশ ফোর্সের (এমপিএফ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন বিভাগ, মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও ঢাকায় নিযুক্ত মায়ানমার দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অত্যন্ত আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে ফলপ্রসূ আলোচনা হওয়ায় উভয় পক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। উভয় পক্ষ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সিনিয়র পর্যায়ের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন মায়ানমারের নেপিতোতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন।