রংপুর বিভাগ

পীরগঞ্জে প্রতি বিঘা ধান চাষে লোকসান প্রায় ৮ হাজার টাকা

বখতিয়ার রহমান, পীরগঞ্জ (রংপুর) ঃ চলতি মরশুমে বোরো ধান উৎপাদনে পীরগঞ্জের কৃষকদেরকে মোটা অংকের অর্থনৈতিক লোকসান গুনতে হচ্ছে । আর এ লোকসানের মুল কারন মজুর সংকট, মজুরের শ্রম, সার , কীটনাশক ও সেচের মুল্য বৃদ্ধি । অথচ জমিতে ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচের চেয়ে প্রাপ্ত ধানের বাজার মুল্য অনেক কম । সার্বিক এ পরিস্থিতির কারনে ধান উৎপাদনের লোকসানের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কৃষকের পক্ষে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে । ধান বিক্রি করে কৃষকেরা প্রত্যশার যে স্বপ্ন দেখেছিল তাও বুমেরাং হওয়ার পথে । যে কারনে সোনালী ফসলের ক্ষেত প্রত্যক্ষ করেও কৃষকদেও মুখে হাসী নেই । তাদেও দিন কাটছে ক্ষোভ আর হতাশায় ।
পীরগঞ্জের বড়দরগাহ ইউনিয়নের ডাসাড়পাড়া গ্রামের মৃত্যু আমির উদ্দিনের পুত্র এক আদর্শ কৃষক সিরাজুল ইসলাম । তিনি ৫০ শতকের বিঘা হিসেবে ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান উৎপাদন করেছেন । কামলা সংকটের মাছেও ১ বিঘা জমির ধান ঘরে তুলেছেন । ধান উৎপাদন নিয়ে বুধবার কথা হয় তার সঙ্গে । কথা বলার শুরুতেই তিনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, এগলা শুনে আর কি করবেন ভাই ? তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান উৎপাদনের জন্য চলতি মরশুমে ১ বিঘা জমিতে প্রথম ৩ হাজার টাকায় গোবর ছিটিয়েছেন । পরে প্রতিকাটা (১ বিঘা = ২০কাটা) ২৫ টাকা হিসেবে ৪ বার চাষ করেছেন এতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার টাকা । এর পর বাজার থেকে ২ হাজার টাকার চারা ক্রয় করে রোপর করতে মজুরকে দিতে হয়েছে ১ হাজার ৮ শত টাকা । সর্বপরি জমি রোপন করতেই তার ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৮ শত টাকা । এ ছাড়া উক্ত পরিমান জমিতে ৩ দফায় সার প্রয়োগ করেছেন । তিনি জানান জমি চাষের সময় অথ্যাত রোপনের পুর্বে প্রতি কেজি ৩০ টাকা হিসেবে ২০ কেজি ডিএবি যার মুল্য ৬ শত টাকা, ৩৫ টাকা কেজি হিসেবে ১০ কেজি টিএসপি যার মুল্য ৩ শত টাকা, ১৭ টাকা কেজি হিসেবে ২০ কেজি পটাশ যার মুল্য ৩ শত ৪০ টাকা ও ৩০ টাকা কেজি হিসেবে ১০ কেজি জিপ যার মুল্য ৩ শত টাকা প্রয়োগ করেছেন । পরবর্তিতে ২য় দফায় ১৭ টাকা কেজি হিসেবে ৪০ কেজি ইউরিয়া যার মুল্য ৬ শত ৮০ টাকা, ১৭ টাকা কেজি হিসেবে ১০ কেজি পটাশ যার মুল্য ১ শত ৭০ টাকা, ৩০ টাকা কেজি হিসেবে ৫ কেজি জিপ যার মুল্য ১শত ৫০ টাকা, ১০৫ টাকা কেজি হিসেবে ২ কেজি মিউভিট যার মুল্য ২ শত ১০ টাকা ও ১১০ টাকা কেজি হিসেবে ২ কেজি ম্যাগনেশিয়াম ব্যবহার করেছেন । সর্বশেষ ৩য় দফায় ১৭ টাকা কেজি হিসেবে ২০ কেজি ইউরিয়া যার মুল্য ৩ শত ৪০ টাকা ও ১৭ টাকা কেজি হিসেবে ১০ কেজি পটাশ যার মুল্য ১ শত ৭০ টাকা ব্যবহার করেছেন । সর্বপরি উক্ত পরিমান জমিতে ৩ দফায় তিনি ৩ হাজার ৫ শত ৩০ টাকার সার
ব্যবহার করেছেন । শুধু মাত্র জমি রোপন ও সার প্রয়োগে তার খরচ হয় ৮ হাজার ৩ শত ৩০ টাকা ।
এছাড়া ঔষধে ব্যয় হয়েছে ৬ শত টাকা, আগাছা দমনে ১ হাজার টাকা, পানি সেচে ২ হাজার ৫ শত টাকা, মজুর দিয়ে ধান কর্তনে ৬ হাজার টাকা ও ধান মাড়াইয়ে ৭ শত টাকা । সর্বপরি উক্ত কৃষকের ১ বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে মোট ব্যয় হয়েছে ২৩ হাজার ১ শত ৩০ টাকা । উক্ত কৃষক আরও জানান তিনি ওই ১ বিঘা জমিতে ধান পেয়েছেন ১২ শত ৯ কেজি । বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ধানের মুল্য সর্বোচ্চ ১২ টাকা কেজি হিসেবে যার বাজার মুল্য ১৪ হাজার ৫ শত ৮ টাকা । হিসাবুনযায়ী উক্ত কৃষকের ১ বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে লোকসান হয়েছে ৮ হাজার ৬ শত ২২ টাকা । উক্ত কৃষক আরও জানান অপর জমি গুলিতেও একই অবস্থা হবে ।
উল্লেখিত হিসেবের সঙ্গে প্রায় সহমত প্রকাশ করেন পার্বতীপুর গ্রামের মজিদ প্রধান, সালাম, গুর্জিপাড়ার মোয়াজ্জেম, হরিপুরের জালাল উদ্দিন সহ আরও বেশ কিছু সংখ্যক কৃষক । তবে যারা ধান উৎপাদনে নিজেরাই শ্রম বিনিয়োগ করেছেন তাদের লোকসানের পরিমান কিছুটা কম । তবে সকল কৃষক নিশ্চিত ধানের এ বাজার মুল্য অব্যহত থাকলে সকল কৃষককে লোকসান গুনতে হবে । আর এতে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে কৃষক সমাজ ।