জাতীয়

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে কেন জানে না কেউ!

কোনও ধরনের কারণ ছাড়াই বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বাড়ছে জীবনযাত্রার মান। যার ফলাফল ২০১৮ সালে শুধু ঢাকায়ই জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে ৬ শতাংশ।

সম্প্রতি ভোক্তা অধিকার সংস্থা- ক্যাব’র একটি গবেষণা এমন তথ্য জানিয়েছে।ক্যাব’র গবেষণা জানিয়েছে, ২০১৮ সালে কেবল ঢাকায় জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে ৬ শতাংশ। পণ্য ও সেবায় দাম বেড়েছে ৫.১৭ শতাংশ। আর এসব বাড়তি খরচের শিকার হচ্ছেন দেশের ১০ কোটি সাধারণ মানুষ। যাদের আয় দৈনিক ২ ডলারেরও কম।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চাল কিনতে এসে শাহেদ আলম জানান, তিনি পরিবারের জন্য ভালো চাল কেনেন। তবে দাম বেড়ে যাওয়ায় চাহিদামতো কিনতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, পছন্দের চালের দাম আমার নাগালের বাইরে। যেখানে আমি কিনতে যাবো ৫০ কেজির একটি বস্তা, এখন সেটা না কিনে আমাকে কিনতে হচ্ছে ২৫ কেজির বস্তা।এদিকে বাড়তি দামের কারণে চালের বিক্রিও কমে গেছে বলে জানান এক ব্যবসায়ী।

ওই ব্যবসায়ী বলেন, শুক্রবারে চাকরিজীবী যারা আছে তারা অন্তত ছুটির দিনে বাজারে আসেব, কেনাকাটা করবে। কিন্তু এখন দেখা গেছে শুক্রবারের মধ্যেও ওইসব প্রভাবটা এখন পরে না, আমরা ক্রেতা পাই না।বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গেল বছরের এই সময় যে মোটা চাল ছিল ৩৬ টাকা, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকায়। দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশ।

আর ক্যাব’র জরিপ বলছে, গেল এক বছরে সব ধরনের চালের গড় দাম ৮.৯১ শতাংশ, ডালের দাম ১৭ শতাংশ, তেলের দাম ২ শতাংশ, মসলার দাম ২২ শতাংশ ও শাক-সবজির দামও প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে।তবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কোনও কারণ দেখছেন না বলে জানান, ক্যাব’র সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি বলেন, হঠাৎ করে চালের দাম খুব বেড়ে যায়। এর কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ আমরা দেখছি না। সরকারও দেখছে না, যারা চাল বিক্রি করছে তারাও দেখছে না। কারও কারসাজিতেই এটা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যদি আপনার জীবনযাত্রার ব্যয় ১০ শতাংশ বাড়ে, আর আমার আয় ৫ শতাংশ বাড়ে তখন আমার জীবনমান নিম্নমুখী হবে।ক্যাব’র জরিপে, বছরের ব্যবধানে রাজধানীবাসীর ব্যয় বেড়েছে ৬ শতাংশ। আর পণ্য ও সেবায় বেড়েছে ৫.১৭ শতাংশ। ক্যাবের মতে, এতে বাড়তি খরচের শিকার হচ্ছেন দেশের ১০ কোটি মানুষ। যাদের আয়, দৈনিক ২ ডলারের নিচে।

বাড়তি দামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার প্রভাব নিয়ে (সিপিডি, সম্মানীয় ফেলো) ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যখন মূল্য বাড়ে তখন কিন্তু অনেকেই আছেন যারা এটার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে পারে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সমস্যা সমাধানে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বাজারে পণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সাপ্লাইচেইন যদি ঠিকমতো ফাংশন করতে পারে আর চাহিদাকে আমরা মোটামুটি আমাদের উৎপাদন ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ম্যানেজ করতে পারি যেখানে মুদ্রানীতি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার একটা অবদান আছে। তাহলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে।