আর্ন্তজাতিক

ধর্ষণের মামলা না নিয়ে বাবাকে দিয়ে থানা পরিষ্কার

পাকিস্তানে ১০ বছরের এক মেয়েশিশু ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির বিষয়ে অভিযোগ তুলেছে শিশুটির পরিবার। তারা বলছে, তাদের মেয়েকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি জানাতে গেলে পুলিশ ঘটনাটি আমলে নেয়নি।

বিবিসিকে ওই শিশুর পরিবার জানিয়েছে, সে সময় পুলিশ পরিবারটিকে বলেছিল, তাদের মেয়ে নিজ ইচ্ছেতে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ওই পুলিশ সদস্যরা অস্বীকার করেছেন।

বিবিসি জানায়, ফারিস্তা নামের ওই শিশু ১৫ মে ইসলামাবাদ থেকে হারিয়ে যায়। এর ঠিক পাঁচ দিন পরে একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, ওই মৃতদেহ ফারিস্তার। বর্তমানে ফারিস্তার মামলাটি পুলিশ তদন্ত করছে। অন্যদিকে, ফারিস্তার ঘটনার সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার চেয়ে শত শত লোক মঙ্গলবার ইসলামাবাদে বিক্ষোভ করেছে।

ঘটনার বিষয়ে ফারিস্তার বাবা গোলাম নবী মঙ্গলবার বিবিসিকে বলেছেন, ‘পুলিশ আমাদের সাহায্য করেনি। (আমি সেখানে গেলে) তারা আমাকে তাদের অফিস পরিষ্কার করতে বলে, আসবাবগুলো সরিয়ে জায়গামতো স্থানে রাখতে বলে এবং ইফতারের জন্য বাজারে থেকে ফল কিনে আনতে বলে।’ তিনি বলেন, ‘আমি ওই কয় দিন এতটাই বিধ্বস্ত ছিলাম যে কখন দিন আর কখন রাত হয়, কিছুই ঠাওরাতে পারিনি।’

এ ঘটনায় গতকাল কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ এনে একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলার পরে শাহাজাদ টাউন থানার পুলিশের প্রধান মোহাম্মদ আব্বাসকে প্রত্যাহার করেছে পাকিস্তান। তবে আব্বাস নিজের ও তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তার সম্পর্কে আনা দায়িত্বহীনতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁরা মামলাটি আমলে নিয়ে ১৬ মে ওই শিশুর পরিবার এবং প্রতিবেশীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ওই শিশুর পরিবার দায়ী, কারণ মামলা করতে তারাই দেরি করেছে। এ ছাড়া, ফারিস্তার বাবাকে দিয়ে থানা পরিষ্কারের বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডনের বরতে বিবিসি জানাচ্ছে, ফারিস্তার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। তবে মেয়েটির ঘটনায় গত রোববার এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইসলামাবাদের পুলিশ জেনারেলের কাছে তুলে ধরার পরেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। অন্যদিকে, ফারিস্তার পরিবারের দাবি, যদি ঘটনার দিনেই পুলিশ ফারিস্তার সন্ধানে বের হতো, তাহলে হয়তো তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।

ফারিস্তার বাবা নবী দাবি করেন, তিনি যখন ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অফিসার আব্বাসের কাছে যান, আব্বাস তাৎক্ষণিক ঘটনাটি আমলে নিতে অস্বীকার করেন। সে সময় আব্বাস নবীকে বলেছিলেন, ফারিস্তা নিজের ইচ্ছায় কারও সঙ্গে পালিয়েছে।

পূর্ব ইসলামাবাদে ফারিস্তার পরিবারের বসবাস। ১৫ মে খেলতে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি ফারিস্তা। প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যায় না ফেরায় তার পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। এরপর পড়শি ও ফারিস্তার বন্ধুদের বাড়ি খোঁজ নেয় তার পরিবার। কিন্তু কোথাও না পেয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে গিয়েছিল তারা। এর পাঁচ দিন পরে এক শিশুকন্যার লাশ উদ্ধার হয়। তবে ওই লাশ আদৌও ফারিস্তার কি না, তা জানার জন্য ময়নাতদন্তের প্রয়োজন। তবে হাসপাতাল থেকে ফারিস্তার পরিবারকে জানানো হয়, ময়নাতদন্তের ডাক্তার ছুটিতে আছেন, তাই এ–সংক্রান্ত পরীক্ষায় দেরি হবে। এতে ফারিস্তার পরিবার ময়নাতদন্ত না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ফারিস্তার বাবা নবী বিবিসিকে বলেন, কফিনে শায়িত যে মেয়েটিকে নবী দেখছেন, তা শুধু তার নিজের নয়, এ যে সমগ্র পাকিস্তান নাগরিকের কন্যা।

ফারিস্তার এই ঘটনা তুলনা করা হচ্ছে ২০১৮ সালে একই পরিণতি হওয়া ছয় বছরের শিশু জয়নাব আনসারির মামলার সঙ্গে। সে সময় শিশু জয়নাবের ঘটনায়ও পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভের উত্তাপ বয়েছিল। ইতিমধ্যে ফারিস্তার জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে হ্যাসট্যাগজাস্টিসফর ফারিস্তার মাধ্যমে আন্দোলন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।