বরিশাল বিভাগ

“দুই জেলায় হাজার কৃষকের সর্বনাশ” – প্রতারক চক্র ধরা ছোয়ার বাইরে

বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃকৃষকের বীজ ধান নিয়ে প্রতারনা করা ও বিএডিসির সুনাম ক্ষুন্নকারী সঙ্গবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্যরা এখনও প্রশাসনের ধরা ছোয়ার বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। উপকূলীয় দু”জেলা বরগুনার তালতলী উপজেলায় ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এবং কুয়াকাটায় বীজ ধানের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে বিএডিসির দেয়া সঠিক বীজ না দিয়ে ভেজাল ও স্থানীয় বীজ প্যাকেট করে বরগুনা ও পটুয়াখালী দুই জেলার প্রায় সহশ্রাধিক কৃষকের সর্বনাশ করার ঘটনায় অভিযুক্ত ডিলার কচুপাত্রা বাজারের মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মালিক আবু বাহিনীর প্রধান প্রতারক আবু মিয়া (৩৮) ও উক্ত সঙ্গবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য আবুর ভাই জয়নাল (৪২), ভাতিজা কাইয়ুম (২২), মামা চান মিয়া (৪৩), মামাতো ভাই ইব্রাহিম (২৫), আবুর স্ব- স্ত্রী (৩০), ও তার মামী চান মিয়ার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩৯), মামাতো ভাই ইব্রাহিম মৃধার স্ত্রী ফতেমা বেগম (২২) ও এর সাথে জরিত অসাধু কর্মচারীসহ প্রতারক চক্রের সদস্যরা এখনও প্রশাসনের ধরা ছোয়ার বাইরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
সরেজমিনে জানাগেছে, বরগুনার তালতলী উপজেলার ৪নং শারিকখালী ইউনিয়নের কচুপাত্রা গ্রামের মৃতু সেকান্দার আলী হাং এর ছোট ছেলে আবু বাহিনীর প্রধান প্রতারক আবু মিয়া তার নিজের ক্ষেতে জ¤œানো ধান শুকিয়ে পরিকল্পিত ভাবে গুদামে রেখে দিয়ে ও যশোর থেকে রাতের আধারে ট্রাক ভর্তি ধান এনে দোকানের পিছনে বসে আবুর স্ব-স্ত্রী ও তার মামী চান মিয়ার স্ত্রী দারা কুলা দিয়ে ঝেড়ে পরিস্কার করে প্যাকেট করে সরল মনা কৃষকদের মাঝে চরা মূল্যে বিক্রি করে এ ভাবে প্রতারনা করে বলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানায়।
সরেজমিনে আরও জানাজায়, প্রতারক আবু মিয়া চলতি আমন মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীদের সহযোগীতায় ও বিএডিসির অসাধু কর্মচারীদের যোগসাযোসে বীজের বস্তা সেলাই করা মেশিনসহ ছিলমারা খালি বস্তা সংগ্রহ করে কচুপাত্রা বাজারে আবুল মার্কেট এর পিছনে ও দোতালায় বসে লোকাল ধান বস্তা ভরে মেশিন দিয়ে সেলাই করে প্যাকেট করে। কখনো কখনো আবার সুযোগ বুঝে কচুপাত্রা বটতলা সোনালী মসজিদের পাশে অবুর নিজ বাড়িতে বসে প্যাকেট করে এবং প্যাকেটের গায়ে ধানের জাতের নাম ওভার রাইটিং করে ব্রি ২৮ কেটে ব্রি ২৩ ধান লিখে, প্যাকিং এর তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৬ কে ওভার রাইটিং করে ২ অক্টোবর ২০১৮ করে উপজেলার একমাত্র ডিলার আবুল তার মামা চান মিয়ার টমটমে করে ও মামাতো ভাই ইব্রাহিম মৃধার অটোতে করে বহন করে তালতলী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ও পার্শবর্তী জেলা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার বিভিন্ন স্থানে অন-অনুমোদিত খুচরা বীজ বিক্রেতা দ্বারা হাজারো কৃষকদের মাঝে বিএডিসির সঠিক বীজ না দিয়ে আবু তার নিজের প্যাকেট করা বোর মৌসুমের স্থানীয় ও যশোরের খোলা বাজার থেকে আনা নিম্নমানের বীজ প্রতারোনার মাধ্যমে বিতরন করে কৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায়। যশোর থেকে আনা বীজগুলো যে সকল কৃষকদের মাঝে বিক্রি করা হয়েছিল অপরিপক্ক অবস্থায় সে সকল বীজে ফলন আসায় কৃষকদের মাঝে হৈচৈ শুরু হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, বিএডিসির প্যাকেটজাত ধানের বীজের প্যাকেটে জাত পরিবর্তন করে, কাটা ছেড়া করে মেয়াদ উত্তীর্ণ, অন্যজাতের স্থানীয় বীজধান প্যাকেটে ভরে কৃষকের সর্বনাশ করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ চিহ্নিত হওয়া পরও প্রশাসন উক্ত প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যাবস্থা না নিলে প্রকৃত কৃষকদের বিএডিসির প্রতি আস্থা কমে আসবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারনা।
খোঁজ নিয়ে আরও জানাযায়, আবুর বিরুদ্ধে এলাকায় এধরনের অভিযোগের আর শেষ নেই। অন্যের অর্থ সম্পদ লুট-পাট, সরকারী জমি দখল, পাবলিক টয়লেট ভাংচুরসহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। তালতলীতে আবু বাহিনী তান্ডব! শিরোনামে জাতীয় দৈনিক যুগান্তর সহ বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে ইতি পূর্বে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। শুধু ভয়ে আবু বাহিনীর প্রধান আবু ও তার লোকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোক মুখ খুলতে সাহস পায়না কারন উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে এর রয়েছে বিশাল গ্যাং, যার ফলে এ চক্রের কাছে স্থানীয় লোক অসহায়।
তালতলীর স্থানীয় কচুপাত্রা বাজারে এভাবে একটি নকল বীজ কারখানার খবর সে সময় বীজ বহনকারী টমটম,অটো চালক ও কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কাছ থেকে সর্ব প্রথম প্রকাশ পায়। ঘটনাটি তখন লোকমুখে ব্যাপক জানাজানি হলে আবু বাজারে তার ঘর থেকে ধান সড়িয়ে তার বাড়ির পাশে মামাতো ভাই ইব্রাহিম মৃধার ঘরে লুকিয়ে রেখে সেখান থেকে বস্তা ভরে সেলাই করে প্যাকেট করে। ঐ সময়ে স্থানীয় কৃষি অফিসের লোকজন এসে বিষয়টির সত্যতা পেয়ে লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে। তখন আপায় উপায় না পেয়ে মুচলেকার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের সাথে আবুর আপোশ হয়েছে বলে জানাগেলেও সে সময় উদ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জোড়ালে ভাবে আমলে নেয়নি, যার ফলে আজ হাজারো কৃষকের সর্বনাশ। কয়েক একর কৃষি জমি অনাবাদী থাকার আশংঙ্কা।
এ ব্যাপারে দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ক্ষতির শিকার কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরেজমিনে যানাযায়, কোন কোন কৃষকের ১০ থেকে ১৫ বিঘা পর্যন্ত কারও তার চেয়েও বেশি জমির বীজ অপ্রাপ্ত অবস্থায় ফলে গেছে। এমতবস্থায় কৃষি অফিস বীজের চারা দিচ্ছে ১ বিঘা জমির শেষ সময়ে বীজের চরম সংকট থাকার কারনে অনেক কৃষি জমি অনাবাদী থাকার আশংঙ্কা।
এতে আগামী আমন মৌসুমে বরগুনা ও পার্শবর্তী পটুয়াখালী জেলা সহ তালতলী উপজেলার প্রায় কয়েক হাজার একর জমিতে আমন ফসল না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকরা তাদের ক্ষতি পোশনোর জন্য সরকারের সার্বিক সহযোগীতাসহ উক্ত সঙ্গবদ্ধ প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় এনে প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচারের দাবী জানান।