আজকের সেরা সংবাদ

জরুরি বৈঠকে ভিকারুননিসার শিক্ষকরা

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে বসেছেন স্কুলের শিক্ষকরা।

বেইলি রোডে প্রতিষ্ঠানটির মূল ক্যাম্পাসে এ বৈঠক চলছে। আজিমপুর, বসুন্ধরা ও ধানমন্ডি শাখার শিক্ষকরাও বৈঠকে যোগ দেবেন। বিভিন্ন শাখা মিলে এ প্রতিষ্ঠানে ৮ শতাধিক শিক্ষক রয়েছেন। দুই শতাধিক শিক্ষক বৈঠকে উপস্থিত আছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবারের এ বৈঠকে গ্রেপ্তার শিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তি, নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

খুরশিদ জাহান মালা নামে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক এ বৈঠকের বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, আমরা নানাভাবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দ্বারা লাঞ্ছিত হচ্ছি। আমরা শিক্ষার্থীদের মানুষ করি অথচ আমাদের হত্যাকারী বলে ধিক্কার দেওয়া হচ্ছে। ঘর-সংসার রেখে আমরা শিক্ষার্থীদের মানুষ করার দায়িত্ব পালন করি।

এদিকে আজ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আগের দিনের চেয়ে কম। তবে আর আন্দোলনে নামার পক্ষে নন অনেক অভিভাবক। তারা বলছেন, আমাদের দাবি পূরণ হয়েছে। নতুন করে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে চাই না। আমরা সবাই মিলে প্রতিষ্ঠানটি গুছিয়ে নিতে চাই।

প্রসঙ্গত, অরিত্রীর বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকলের অভিযোগ এনেছিল। এজন্য অরিত্রীর মা-বাবাকে ডেকে নেন ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ। এই ঘটনার জেরে বাসায় এসে অরিত্রী আত্মহত্যা করে।

পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শান্তিনগরে সাত তলা ভবনের সপ্তম তলায় নিজেদের ফ্ল্যাটে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অরিত্রীকে পাওয়া যায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসকরা অরিত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত ১০টায় রাজধানীর পল্টন থানায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আখতার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন অরিত্রীর বাবা। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওই তিন শিক্ষককে বরখাস্তের নির্দেশ দেয়। গতকাল রাতে গ্রেপ্তার হন হাসনা হেনা।