শিক্ষাঙ্গন

ছাত্রলীগের কারণে রাবি প্রশাসনের লক্ষাধিক টাকা লোকসান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আম ও লিচুর ৩টি বাগান বিনা টেন্ডারে দখল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। শুধু দখলই নয় বাগানের সব লিচু স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে তারা। প্রতি বছর বাগানগুলোর টেন্ডার থেকে বেশ কিছু টাকা আয় করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এবছর ছাত্রলীগের অবৈধ দখলদারিত্বে প্রায় লক্ষাধিক টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, এই বেআইনিভাবে যারা বাগানগুলো দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটিও করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের ৭টি আম-লিচু বাগানের মধ্যে ৪টির টেন্ডার হলেও বাকি তিনটির টেন্ডারের জন্য পর পর তিনবার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। প্রথম বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় গত ১৩ মার্চে। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৮ এপ্রিল ও ২৫ এপ্রিল তারিখে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। তৃতীয় ও শেষ বিজ্ঞপ্তির আবেদনের সময়সীমা গত ৩০ এপ্রিলে শেষ হয়। এরপরও কোনো আবেদনপত্র জমা পড়েনি। যেহেতু তিনবারের বেশি কোটেশন বিজ্ঞপ্তি দেয়ার নিয়ম নেই তাই টেন্ডারবিহীন থেকে যায় সেই তিনটি বাগান।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাগানগুলোর টেন্ডারের জন্য অনেকেই আবেদনের জন্য এসেছিল। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের আবেদনপত্র জমা দিতে বাধা দেয়ায় বাইরের কেউ আবেদন করতে পারেনি। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ৩টি বাগান লিজ নেয়ার জন্য ৩ হাজার টাকা জমা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের কাছে সেই আবেদন গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তৎক্ষণাত ফিরিয়ে দেয়। অবশেষে লিজ ছাড়াই সেই বাগানগুলো দখলে নেয় ছাত্রলীগ।

কৃষি প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বলেন, তিনবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরেও কোনো আবেদনপত্র জমা না পড়ায় নির্বাহী আদেশের জন্য টেন্ডারের ফাইল উপ-উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই ৩টি বাগান কেউ টেন্ডার পায়নি।

এদিকে প্রশাসনের কাছে টেন্ডারের আবেদনপত্র ও জামানত কিছু জমা না দিলেও গাছের লিচু পেড়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে ছাত্রলীগের নেতারা। প্রতিদিনই বিভিন্ন গাছের লিচু পেড়ে স্থানীয় ছেলেদের দিয়ে বিক্রি করাচ্ছেন শাখা ছাত্রলীগের তিনজন নেতা। এর পাশাপাশি ছাত্রলীগের গার্ডরা গাছের নিচে অনুপস্থিত থাকলেই শিক্ষার্থীরাও লিচু পেড়ে খাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ছাত্রলীগ নেতাদের চোখে ধরা পড়লেই শিক্ষার্থীদের নানা রকম হুমকি ও গালিগালাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারে মনির নামের স্থানীয় এক ছেলে লিচু বিক্রি করছে। প্রতি কেজি লিচু ২৪০ টাকা দামে বিক্রি করছে সে। তার বাড়ি বিনোদপুরেই।

মনির জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার আমাকে লিচু বিক্রির দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা কয়েকজন মিলেই লিচু বিক্রির কাজ করছি। এর বিনিময়ে প্রতিদিন লিচু ও মজুরি হিসেবে টাকা দেয়া হয়।’

আম-লিচু বাগান দখলের সাথে জড়িত শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সারোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা বাগানগুলোর টেন্ডারের জন্য আবেদন করেছিলাম। যেহেতু অন্য কেউ টেন্ডার নেয়নি, তাই আমাদের আমাদের আবেদনই গ্রান্টেড হবে বলে মনে করেছিলাম।

তবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাগানগুলো থেকে প্রকাশ্যে লিচু পাড়তে দেখা গেলেও বরাবরই লিচু বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে সারোয়ার হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের কেউ লিচু বিক্রির সাথে জড়িত না। স্থানীয় ছেলেরাই হয়তো এই কাজ করে ছাত্রলীগের নাম বলছে।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, বাগানগুলো দখল করার পরে আমাদের কাছে কয়েকজন আবেদন করেছিল। তাদের সেই আবেদনও আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তাদের ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। কারণ তারা আমাদের না জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাগানগুলো দখলে নিয়েছে। একজন শিক্ষার্থী কিভাবে একাজ করতে পারে তা আমাদের বুঝে আসে না। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলরকে আমি নোট দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।-বিডি-প্রতিদিন