রাজনীতি

খালেদা জিয়ার কিছু হলে দায় সরকারের : রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মহিলা দলের নেতাকর্মীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারো নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মিছিলে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।

মানববন্ধনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার প্রধানের নির্দেশেই জামিনযোগ্য মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আটকিয়ে রেখে মুক্তিতে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকারের বাধার কারণে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলছে না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসার আগুনে দেশনেত্রীর জীবন এখন সংকটাপন্ন। আমরা দেশনেত্রীর অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা নিয়ে বারবার তার সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানালেও সরকার গায়ের জোরে সেই দাবিকে অগ্রাহ্য করছে। কিন্তু সরকারের অবহেলায় এবং প্রতিহিংসা পূরণের ফলে বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। আমি আবারো খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।

‘বেগম জিয়া বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেন না’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আসলেই আওয়ামী সরকারের ওপরেই নির্ভর করছে বেগম জিয়ার জীবন-মৃত্যু। তারা দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়েও বিদ্রুপ করছেন। এরা বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে আকাশছোঁয়া অহংকারে ভুগছেন। অহংকারের কারণে তাদের পতন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। এসব বক্তব্য অমানবিক ও মনুষ্যত্বহীন।

রিজভী বলেন, বর্তমানে জনগণের প্রিয় নেত্রী ও চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এতটাই অবনতিশীল যে, তিনি বর্তমানে বিছানা থেকেও উঠতে পারছেন না। এতদসত্বেও সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়-মিডিয়ার সামনে ভিন্ন ধরণের কথা বললেও ভেতরে ভেতরে বেগম জিয়ার চিকিৎসা ও অসুস্থতা নিয়ে নিষ্ঠুর তামাশা করে যাচ্ছেন। বাস্তবে বেগম খালেদা জিয়ার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। মিছিলে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরজাহান ইয়াসমিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, কেন্দ্রীয় নেত্রী ফারহানা ইয়াসমিন আতিকা, মুকুল আক্তার অনা, শাহজাদী কহিনুর পাঁপড়ী, এলিজা মুন্নী, শাহিদা মির্জা, মুনমুন আক্তার, নীলুফার ইয়াসমিন, শিল্পী রেজা, রুমা আক্তার, আজমেরী আজিম, তানজীম ইসলাম লিলি, মম আক্তার, মাসুদা খান লতা, নাজিয়া হক রুনা, রুখসানা মির্জা প্রমুখ নেতাকর্মী অংশ নেন।

মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বিক্ষোভ: মহিলা দলের মানববন্ধন ও মিছিলের পরপরই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে একই দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়। এই মিছিলেও নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মিছিল শেষে বর্তমানে শারীরিকভাবে ভয়ানক অসুস্থ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নি:শর্ত মুক্তির জোরালো দাবি জানান তিনি।

মিছিলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহ-সভাপতি ইউনুস মৃধা, নবী উল্লাহ নবী, মোশাররফ হোসেন খোকন, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মীর হোসেন মিরু, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন ভুঁইয়া নান্টু, জাফর আহমেদ, প্রচার সম্পাদক আব্দুল হাই পল্লব, বংশাল থানা বিএনপি নেতা তাইজুদ্দিন আহমেদ, সূত্রাপুর থানা বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজ, ডেমরা থানা বিএনপি নেতা আবুল হাশেম, ধানমন্ডি থানা বিএনপি নেতা কাবিরুল হাসান, পল্টন থানা বিএনপি নেতা ফিরোজ পাটোয়ারী, কদমতলী থানা বিএনপি নেতা বাদল রানা, সূত্রাপুর থানা বিএনপি নেতা আক্তার লালবাগ থানা বিএনপি নেতা সুইটসহ বিভিন্ন থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।