খেলাধুলা

কেবল মাঠেই নয়, বিছানাতেও ‘রাজা’ ম্যারাডোনা

হতে পারে লোকটার ভুঁড়ি আছে, ড্রাগ, অ্যালকোহলের নেশাও করেছে বিস্তর। তবু লোকটা বিছানায় এখনও নিখুঁত। এই বয়সেও! এই মত যার, তিনি ভেরোনিকা ওজেডা। ফুটবল ঈশ্বরের সাবেক প্রেমিকা। ৪০ বছরের ভেরোনিকা ম্যারাডোনার ঔরসজাত পুত্র ডিয়েগো ফার্নান্দোর জননীও বটে। সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ভেরোনিকা রীতিমতো আচ্ছন্ন ডিয়েগো ম্যারাডোনায়। বছরখানেক আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ভেরোনিকা স্পষ্ট করে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘ডিয়েগোই আমার সব থেকে সেরা প্রেমিক। ওর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পরের ২ বছর আমি কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করিনি।’ যা শুনে ম্যারাডোনার বড় মেয়ে দালমা জানিয়েছিলেন, বাবা সম্পর্কে এই ধরনের কথা শুনে তিনি অত্যন্ত লজ্জিত।

দালমার অস্বস্তির যথেষ্ট কারণ ছিল। কেননা ওই সাক্ষাৎকারে ভেরোনিকা ফাঁস করেছিলেন ম্যারাডোনার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের কথাও। তিনি জানিয়েছিলেন, যৌনতার সময়ে ম্যারাডোনা চাইতেন ভেরোনিকা পুলিশের পোশাক পরুন। কেবল তাই-ই নয়, ম্যারাডোনা একবার জনবহুল সুইমিং পুলেই নাকি মিলিত হয়েছিলেন তার সঙ্গে। ম্যারাডোনা বিচিত্র বিতর্কিত জীবনের কথা এভাবে সর্বসমক্ষে এনেছিলেন ভেরোনিকা।

তবে কেবল তো ভেরোনিকাই নন, সারা জীবন ধরে এক বান্ধবী থেকে বান্ধবীতে যাওয়ার পথে ম্যারাডোনার বিচিত্র যৌন জীবন বার বারই উঠে এসেছে আলোচনায়। স্রষ্টা প্রদত্ত বাঁ পা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু। সেই কোন ছোট্ট বয়স থেকেই ম্যারাডোনায় মুগ্ধ ফুটবল দুনিয়া। আর ১৯৮৬ সালের অবিশ্বাস্য সব গোল আর শেষ পর্যন্ত দেশ আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার পরে ফুটবল-ঈশ্বরের আসনে তিনি ভাগ বসান পেলের সঙ্গে। সেই সঙ্গে আলোচ্য হয়ে ওঠে মাঠের বাইরে তার আশ্চর্য জীবনযাপনের কথাও।

আরও একটা বিশ্বকাপ ফুটবলের সামনে উঠে আসছে ম্যারাডোনার সেই বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অফ গড’ কিংবা একই ম্যাচে ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’। প্রথম গোলের জন্য তিনি নিন্দিত। দ্বিতীয় গোলর জন্য নন্দিত। এ সব কথা বাকি বিশ্বের মতোই বাঙালির নস্টালজিয়াতেও মাখামাখি হয়ে রয়েছে। কেবল ম্যারাডোনার জন্যই বাংলায় আর্জেন্টিনার এত ফ্যান। পরবর্তী সময়ে মেসিকে কেন্দ্র করে যে উন্মাদনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কিন্তু এর ভরকেন্দ্রে আজও ডিয়েগো ম্যারাডোনাই।

কিন্তু কেবলই মাঠের রূপকথাতেই শেষ হয়ে যায় না ম্যারাডোনা-ম্যাজিক। আর সেখানেই তিনি অনন্য। মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘোল খাওয়ানোর পাশাপাশি সে যেন নিজেকেও ড্রিবল করে চলেছে প্রতিনিয়ত। আর তাই নেশায় ডুবে যাওয়া আর অবিরত নারীসঙ্গ। জীবনকে আকণ্ঠ পান করার নামই ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

যৌনতা তার কাছে বরাবরই স্বাভাবিক একটি বিষয়। নিজে কোচ থাকাকালীন সময়ে ম্যারাডোনা চেয়েছেন তার দেশের খেলোয়াড়রাও যেন বিশ্বকাপের চাপ সামলাতে নিয়ম করে যৌনতার চর্চা করে চলেন! যে মত নিয়ে বিতর্কও হয়েছিল ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সময়ে।

এমনই তিনি। যেভাবে হাত দিয়ে গোল করার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন, সেভাবেই স্বীকার করেছেন বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথাও। ২০১৪ সালে বয়সে প্রায় ৩০ বছরের ছোট বান্ধবীকে গান গাইতে গাইতে সর্বসমক্ষে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছিলেন তিনি। অথচ তার কয়েকদিন আগেই রোজিও অলিভা নামের সেই বান্ধবী অভিযোগ করেছিলেন দিয়েগো তাকে শারীরিক ভাবে হেনস্তা করেছেন! ম্যারাডোনা অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কোনও মহিলার গায়ে হাত তোলার মতো মানুষ নন তিনি।

আসলে ম্যারাডোনা এমনই। সেই আশির দশকে বোকা জুনিয়র্স ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেন ম্যারাডোনা। ৫০ লক্ষ ইউরোর বিনিময়ে বার্সেলোনায় আসার পরে ১৯৮৪ সালে ৭০ লক্ষ ইউরোয় সিরিআ ক্লাব নাপোলিতে আসেন ফুটবল জাদুকর। দু’বারের এই বিপুল স্থানান্তর-ফি এক বিশ্বরেকর্ড।

তখন ম্যারাডোনার বয়স অত্যন্ত অল্প। বছর চব্বিশেকের এক তরুণ যেন রাতারাতি সপ্তম স্বর্গে। কখনও বল বয় হয়ে কাজ করেছেন। কখনও অর্থের বিনিময়ে খেলার বিরতিতে পায়ের সঙ্গে বলের আশ্চর্য চৌম্বক সম্পর্ক তৈরির খেলা দেখানো। এইভাবেই বড় হয়ে ওঠা। ষোলো বছর বয়সেই বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু। সেই ছেলেই কয়েক বছরের মধ্যে বিপুল অর্থ ও যশ-খ্যাতির মালিক। যে বয়সে সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে চাকরিতে ঢোকার কথা ভাবে বা কর্মজীবনে পা রাখে, সেই বয়সেই বিপুল ধনী হয়ে ওঠাটা কোথায় যেন ম্যারাডোনাকে উন্মত্ত করে তুলেছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘এই জীবন লইয়া কী করিতে হয়’ সেই প্রশ্নই যেন তাড়িয়ে বেরিয়েছিল ম্যারাডোনাকে। তাই জীবনকেও পায়ে পায়ে নিয়ে এক আশ্চর্য ড্রিবলে মত্ত হয়েছেন তিনি।

নাপোলিতে থাকাকালীনই নেশায় ক্রমে জড়িয়ে যান ম্যারাডোনা। আর ছিল যৌনতা। সময় পেরিয়েছে। কিন্তু বদলাননি ম্যারাডোনা। স্ত্রী ক্লদিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে। নিজের আত্মজীবনীতে অকপটে ম্যারাডোনা লিখেছিলেন, তিনি মোটেই ক্লদিয়ার প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন না।

এই অকপটতাই ম্যারাডোনা স্বভাব। আর তাই এমন বিতর্কের মাঝেও ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তিনি ‘রাজা’। মাঠে হোক বান্ধবীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা- জীবন নামের রঙ্গমঞ্চে রাজার পার্টটাই আজীবন করে গিয়েছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। এখনও করছেন!