খুলনা বিভাগ

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে আ. লীগের একাধিক প্রার্থী নিজেকে যোগ্য মনে করেন

সুজন কুমার কর্মকার, কুষ্টিয়া ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৭৫ নম্বর কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসন। বর্তমানে এটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা আফাজ উদ্দিন আহম্মেদ দলীয় মনোনয়ন পেলেও সেখানে জয়লাভ করেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল হক চৌধুরী। বর্তমানে এ আসনে এই দুই নেতা ছাড়াও নির্বাচনী মাঠ গরম করে রেখেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির অন্যতম সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও স্থানীয় খলিশাকুন্ডি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মোফাজ্জেল হক। তিনিও আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের একজন শক্তিশালী প্রার্থী। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ড. মোফাজ্জেল হক তাঁর নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন। কলেজে শিক্ষকতা শেষে প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করছেন। এ সময় তিনি শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম লিফলেট আকারে ছেপে তা জনসাধারণের মধ্যে বিতরণ করছেন। মোফাজ্জেল হক গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের বার্তা দৌলতপুরের সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করে আসছেন। তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রীড়া, পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবসম্পদসহ বিভিন্ন উন্নয়ন তুলে ধরে প্রতিদিনই পথ সভা ও লিফলেট বিতরণ করে চলেছেন দৌলতপুরে। তিনি সকলকে আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে আসছেন। এলাকার মানুষজনও সদালাপী মোফাজ্জেল হককে কাছে পেয়ে আগামী দিনের নতুন নেতা হিসেবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। অধ্যক্ষ মোফাজ্জেল হক বলেন, ‘আমি মনোনয়ন পাব কি না সেটা বড় কথা নয়। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাই আমি একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের বার্তা লিফলেট আকারে পৌঁছে দিচ্ছি। এরই মধ্যে আমি জনসংযোগ এবং পথসভার মাধ্যমে লক্ষাধিক লিফলেট বিতরণ করেছি। আরো নানাভাবে জনসংযোগ অব্যাহত রেখেছি।’
সাবেক সংসদ সদস্য আফাজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘এক নেতার কারণে গতবার আমাকে পরাজয়বরণ করতে হয়েছে। কাজের মূল্যায়ন করা হলে এবার আমি মনোনয়ন পাব বলে আশা করি।’ বর্তমান সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এলাকার মানুষের জন্যই আমার রাজনীতি। আশা করি মনোনয়ন আমিই পাব।’
পাশাপাশি কুষ্টিয়া বিশেষ জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন রিমন এবং জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসানুল আসকার হাসু সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।