বিশেষ প্রতিবেদন

এসএসসি পাস না করে এমবিবিএস!

কোনো মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করেননি, নেই মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পাসের সনদও। অথচ তিনি একজন এমবিবিএস চিকিৎসক, লিখছেন সব রোগের ব্যবস্থাপত্র। করে যাচ্ছেন জটিল সার্জারিও। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মার্কেটের মেডিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসে রোগী দেখতেন। গতকাল রবিবার দুপুরে তাঁকে আটক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাকিম মাহমুদা আক্তার। পরে নিয়মিত মামলা দিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মেডিপ্যাথ ডায়গনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, দেড় মাস ধরে ডা. এস আলম এখানে বসে রোগী দেখছেন। তবে এখানে বসার আগে তাঁর কাছে চিকিৎসা পেশার সনদপত্র চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই চিকিৎসক তাঁকে একটি নিবন্ধন নম্বর দিয়ে কাগজপত্র পরে দেবেন বলে জানান। নান্দাইল প্রাইভেট হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিয়োগ দিয়েছে। সেখান থেকে সপ্তাহে শনি ও রবিবার তিনি এখানে বসতেন।

মাহমুদা আক্তার যখন ডায়গনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালান তখন তাঁর চেম্বারের সামনে গ্লাসের মধ্যে সাঁটানো একটি কাগজে লেখা ছিল, ‘মেডিসিন, সার্জারি, বাতজ্বর, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট রোগের বিশেষ অভিজ্ঞ, ডা. মো. এস আলম, এমবিবিএস (ঢাকা), পিজিটি (মেডিসিন) অ্যান্ড পিজিটি (সার্জারি), সিএসইউ (মেডিক্যাল আল্ট্রা সাউন্ড), সিসিডি (বারডেন)। একপর্যায়ে তাঁর কাছে নিজের চিকিৎসক নিবন্ধন নম্বর চাইলে তিনি ৪৪৯৫৭ বলেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন নম্বরটি যাচাই করলে ডা. সাদিকুল আলমের ছবি আসে। যার সঙ্গে এস আলমের চেহারার মিল পাওয়া যায়নি। ওয়েবসাইটে ডা. সাদিকুল আলম গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা। কিন্তু এস আলম কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পারুয়া গ্রামের মৃত আবদুল মজিদের ছেলে। নির্বাহী হাকিমের জিজ্ঞাসাবাদে এস আলম একপর্যায়ে নিজের নাম আবদুল আলীম বলে জানান। তাঁর সঙ্গে থাকা কাগজপত্রে আবদুল আলীম নামটিও পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর মাতুয়াইলে মেডিনোভা হাসপাতাল ও ডিজি ল্যাবের চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে এই কথিত চিকিৎসক ধরা খেয়ে ঢাকা ছাড়েন।