ঢাকা বিভাগ

এতিম শিশুর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন এমপি দুর্জয়

কামরুল হাসান খান: দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত থাকার পাশাপশি এমন মায়া মমতা ও সহনুভূতির মানুষ খুজে পাওয়া  দায় ।এমন ভাল মনের মানুষ আছে এটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা দুরুহ ব্যাপার । শনিবার মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আগকলিয়া এক বাড়িতে সামাজিক অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যসহ অনেকে বসে মতবিনিময় করছিলেন । হঠাৎ এক বৃদ্ধ মহিলা সাত বছরের শিশুকে নিয়ে হাজির হলেন সংসদ সদস্যের সামনে । এই শিশুটির নাম সুমাইয়া আক্তার (৭)। বছর দুয়েক আগে মা রংবালা বেগম ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বাবা আবুল হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করে হয়েছেন ঘরজামাই। সেই থেকে নানী  কদবানুর কাছে থাকছে শিশু সুমাইয়া আক্তার ।
বর্তমানে নানা অসুস্থ। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে দু’বেলা খাবার যোগান নানী। স্থানীয় চর-মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়ার ইচ্ছা লেখাপড়া করার।
 কিন্তু দরিদ্র নানার সংসারে যেখানে ঠিকমতো খাবারই জুটে না,  লেখাপড়া তো দুরের কথা ।
শিশু সুমাইয়াকে সঙ্গে নিয়ে তার নানী এমপি দুর্জয়ের কাছে ছুটে যান। তাদের বিস্তারিত ঘটনা শুনে মায়া হয় তার।এতে শিশু সুমাইয়াকে বুকে জড়িয়ে নেন এমপি দুর্জয়। তাৎক্ষণিকভাবে পকেট থেকে কিছু নগদ অর্থ হাতে তুলে দিয়ে এমপি দুর্জয় ঘোষণা দেন, শিশু সুমাইয়ার আজীবন লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলাম এবং  প্রতি মাসে তার লেখাপড়ার খরচ আমি দেব।
এমন কথা শুনে অবশেষে দৌলতপুর উপজেলার আগকলিয়া গ্রামের এই এতিম শিশুর সুমাইয়া ও নানী কদবানুর মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক ও কলিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানা বলেন, এমপি দুর্জয়ের এই ঘোষণার পর এতিম শিশু ও তার নানীর মুখের হাসিটা যেন রূপ নিলো প্রজ্জলিত আলোর ঝলকানিতে।
  এমন মানবিক দায়িত্ব নেয়ায় এলাকার লোকজনও  এমপি’র প্রতি  সহনুভূতি অনেকাংশে  বেড়েছে গেছে।
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিসিবি পরিচালক এ.এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় ২/৩ আগে একই এলাকার এক স্কুলছাত্রের চোখ অপারেশন করিয়েছেন নিজ খরচে। এছাড়া শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের এক কলেজছাত্রীর লেখাপড়ার খরচ চালান তিনি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ও  সাবেক ক্রিকেট তারকা  এ.এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় বলেন, শিশুকাল থেকেই আমার  ইচ্ছে জনকল্যানে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো!  বাবার আদর্শ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার উদার মানসিকতাই আমাকে সাধারন মানুষের প্রতি সংবেদনশীন হতে শিখিয়েছে।   মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এভাবেই মানুষের  কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।