রাজনীতি

ইসি ও সচিবালয় ঘেরাও করবে বামজোট

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে একগুচ্ছ কর্মসূচি দেবে আটদলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোট। আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) মতবিনিময় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ গুচ্ছ কর্মসূচি শুরু হবে। আসছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বড় আকারে রাজপথের কর্মসূচি দেওয়া হবে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিও রয়েছে। জোটের একাধিক নেতা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, ‘আমরা কয়েকটি কারণে আগামীদিনে কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে আসবো। প্রথমত, এই সরকারের অধীনে অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুযোগ নেই। সে কারণে সরকারকে পদত্যাগ করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ম্যান্ডেডবিহীন এই সংসদ, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারের নির্বাচন যারা করতে পারে না, তারা জাতীয় নির্বাচন করতে পারবে না। ফলে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। ধারাবাহিক কর্মসূচি থাকবে। জেলা জনসভা, বিক্ষোভ, ঘেরাও থাকবে। এরপর ২৬ আগস্ট পরবর্তী কর্মসূচিগুলো নিয়ে বসবো।’

জোটের নেতারা জানান, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে জাতীয় ঐক্যমত তৈরি, দশম সংসদ ভেঙে দেওয়াসহ কয়েকটি দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। ২০ সেপ্টেম্বর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুষ্ঠানের দাবিতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের চিন্তাভাবনা আছে জোটের। ১১ অক্টোবর ব্যাংক লুটপাট, দুর্নীতি দমন, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাম দলগুলো।

এর আগে ৩০ আগস্ট মতবিনিময় হবে সিপিবি অফিসে। এদিন সামনের দিনগুলোর সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আরও বিশদ আলোচনা করা হবে। ৮ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাবে জোট থেকে একটি কনভেনশন করার চিন্তাভাবনাও চলছে। এই কনভেনশনে অন্যান্য দলের নেতা, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

গত ১৯ আগস্ট জোটের এক বৈঠকে এসব কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জোটের একজন নেতা জানান, এই কর্মসূচিগুলো জানাতে সংবাদ সম্মেলন হতে পারে জোটের তরফে।

এ বিষয়ে জোটের অন্যতম নেতা সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমাদের অনেকগুলো কর্মসূচি হয়েছে। আগামীদিনে আরও কর্মসূচি আসবে। নির্বাচন কমিশন, সচিবালয়ের সামনে কর্মসূচি আসবে আগামী মাসে। এই মাসেও একটা হওয়ার কথা ছিলো।’

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম আরও বলেন, ‘আমরা ২৬ আগস্ট ফুলবাড়ি কর্মসূচি পালন করবো। জনগণের সবগুলো ইস্যু নিয়ে, লুটপাটতন্ত্র, অবাধ নির্বাচনের দাবি নিয়ে কর্মসূচি আসবে।’

বামনেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী অক্টোবরে নির্বাচন কমিশন নিয়ে কর্মসূচি নিয়ে নানা বিষয় মাথায় রাখতে হচ্ছে বামদলগুলোকে। ইতোমধ্যে আগামী অক্টোবরে তফসিল ঘোষণার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। যদিও বামনেতাদের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, আগামী নির্বাচনের তফসিল নভেম্বর মাসে যেতে পারে।

গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, ‘আমরা পুরো সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর কাজে লাগাতে চাই। এর মধ্যে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে, সামনে আসবে। ৩০ আগস্ট আমরা আবার আলোচনা করে পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবো।’

মোশরেফা মিশু বলেন, ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট আগামীদিনে পুরো বাংলাদেশে আন্দোলনে যাবে। মানুষের দাবি নিয়ে, মানুষের সমস্যার বিষয়গুলো নিয়ে এবং নির্বাচনি সমস্যা দূর করতে কর্মসূচি দেবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই আট বাম দল মিলে ‘বাম গণতান্ত্রিক জোট’ গঠন করে। দল আটটি হচ্ছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন