লাইফস্টাইল

ইফতারে ঠাণ্ডা পানি পান করলে যে ৯টি সমস্যা হয়

তাপমাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তার উপর রোজা রাখা। গরম আর সারা দিন পানি না খাওয়ায় শরীরের পানির চাহিদা বেড়ে যায়। তাই ইফতারে প্রথমেই প্রয়োজন হিম শীতল ঠাণ্ডা পানি। কিন্তু জানেন কি এই ভাবে ঠাণ্ডা পানি খাওয়ার অভ্যাস মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পরে ঠাণ্ডা পানি খাওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। কারণ, এর ফলে শ্বাসনালীতে অতিরিক্ত পরিমানে কফের আস্তরণ তৈরি হয়, যা থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

১. হজমে বাধা

বরফ ঠাণ্ডা পানি বা ঠাণ্ডা পানীয় রক্তনালীকে সঙ্কুচিত করে দেয়। হজমে বাধা দেয় ও হজমের সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ শোষণেও বাধা দেয়। সেই সঙ্গেই পানির তাপমাত্রার সঙ্গে সাম্য বজায় রাখতে গিয়ে ডিহাইড্রেশন হয়ে যেতে পারে।

২. গলা ব্যথা

গরম কালে বরফ ঠাণ্ডা পানি পান করলে ঠাণ্ডা লেগে গলা ব্যথা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঠাণ্ডা পানি শ্বাসনালীতে মিউকাস জমতে সাহায্য করে। ফলে শ্বাসনালীতে প্রদাহ হয়।

৩. ফ্যাটের পরিপাকে বাধা দেয়

খাওয়ার ঠিক পরেই ঠাণ্ডা পানি পান করলে তা খাবারে থাকে ফ্যাট জমিয়ে দিতে পারে। ফলে ফ্যাট হজম হতে বাধা পায় ও শরীরে মেদ হিসেবে জমা হয়। তবে শুধু ঠাণ্ডা পানি নয়, খাওয়ার ঠিক পরই পানি পান করাও উচিত নয়। অন্তত ৩০ মিনিট পর পানি পান করুন।

৪. হার্ট রেট

কিছু গবেষকরা জানিয়েছেন, ঠাণ্ডা পানি হার্ট রেট কমিয়ে দিতে পারে। বরফ ঠাণ্ডা পানি দশম কার্নিয়াল নার্ভকে উত্তেজিত করে। এই নার্ভ হার্ট রেট কমিয়ে দেয়।

৫. দাঁতের ক্ষতি

দন্ত চিকিত্সক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি খেলে তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে দাঁতের ভেগাস স্নায়ুর উপর। এই ভেগাস স্নায়ু আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি খেলে ভেগাস স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। ফলে আমাদের হৃদযন্ত্রের গতি অনেকটাই কমে যেতে পারে।

৬. প্রাণশক্তি কমিয়ে দেয়

আমরা ঠাণ্ডা পানি পান করলে আমাদের শরীরকে বাড়তি শক্তি ব্যয় করে সেই ঠাণ্ডা পানিকে আবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনার প্রয়োজন হয়। যেই শক্তিটা অন্য কাজে ব্যয় করা যেতো সেই শক্তিটা খরচ হয়ে যায় পানির তাপমাত্রা ঠিক করতে গিয়েই! এজন্যে প্রচুর ক্লান্তিতেও ঠাণ্ডা পানি এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করা উচিত।

৭. মিউকাস (কফ) বাড়িয়ে দেয়

ঠাণ্ডা পানি শরীরে মিউকাসের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলাফলস্বরূপ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং নাক থেকে পানি পড়ার পাশাপাশি বড় অসুখ হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

৮. পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যায়

আমাদের শরীরের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। যখন আপনি খুব কম তাপের পানীয় পান করেন তখন আপনার শরীরকে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। এই ক্ষয়িত শক্তি হজমের কাজে ব্যবহার হতে পারতো। এবং শরীরে পুষ্টি শোষিত হতে পারতো। এ কারণেই ঠান্ডা পানি নিয়মিত পান করলে শরীর কম পুষ্টি পায়।

৯. শরীরের শক্তি ক্ষয় করে

আমাদের শরীরের তাপমাত্রা যেহেতু স্বাভাবিক মাত্রায় ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তাই ঠাণ্ডা পানি যখন পাকস্থলীতে জমা হয় তখন পাকস্থলী তা শরীরের তাপমাত্রায় নিয়ে আসে।ফলে শরীরের অহেতুক শক্তি খরচ হয়।

সুতরাং, আপনারও যদি ইফতারে এভাবে ঠাণ্ডা পানি খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে তা আজই বদলে ফেলুন। না হলে আপনার শরীরে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।