সারাদেশ

ইউরোপের রঙিন স্বপ্ন কেড়ে নিল শামীমের প্রাণ

ইউরোপের রঙিন স্বপ্ন নিয়ে চার মাস আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমান আহসান হাবীব শামীম (১৯)। সেখান থেকে দালালের মাধ্যমে ৩ দিন পায়ে হেঁটে চড়ে বসেন ট্রলারে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন কাঙ্ক্ষিত দেশ ইতালি। কিন্তু তিউনেসিয়া এসে ট্রলার ডুবিতে সেই স্বপ্নের সলিল-সমাধি ঘটে।

তিউনিসিয়ায় ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবিতে ৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন সিলেট ও একজন মৌলভীবাজারের।

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বাদেভুকশিমইল গ্রামের হাজী আব্দুল খালেকের ছেলে শামীম তাদের একজন। সিলেট গোটাটিকর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে এ বছর দাখিল পরীক্ষার্থী ছিলেন শামীম।

এদিকে শামীমের নিহতের খবরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন কান্নায়। স্বপ্নের ইউরোপ যাত্রার এমন সলিল-সমাধি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। আদরের ছোট ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা রাজনা বেগম।

শামীমের মা রাজনা বেগম বলছিলেন, গত বৃহস্পতিবার সেহেরির সময় ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। শামীম মায়ের থেকে দোয়া নিয়েছে। জানিয়েছিল দীর্ঘপথ পায়ে হাঁটার পর এবার তারা ৮০ জনের মতো সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছাবে। এটাই তার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা । কিন্তু ছেলে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে আর পারেনি, এসেছে তার ছেলের মৃত্যুর সংবাদ।

শামীমের বড়ভাই আবু সাইদ জানান, সাত ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামীম সবার ছোট। স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে তিনি হাফিজিয়া পাস করে সিলেটে আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার।

তিনি বলেন, গত রমজান মাসে তিনি এলাকার মসজিদে তারাবির নামাজ পড়াতে আসেন। সে সময় তাকে ইউরোপে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে পরিবার। সেই প্রক্রিয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে দালালের মাধ্যমে তাকে ও তার বড় ভাই সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদের শ্যালকের সঙ্গে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে তারা তিনদিন আগে ইতালির উদ্দেশে রওনা করেন আরেক দালালের মাধ্যমে। তারপর জানা গেলো শামীম তিউনিসিয়ায় নৌকা ডুবিতে নিহত হয়েছেন।