অর্থনীতি

আবাসিকে নয়, শিল্পসহ কয়েক খাতে বাড়ছে গ্যাসের দাম

গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। দাম বাড়বে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। তবে আবাসিক শ্রেণির গ্রাহকদের ক্ষেত্রে দাম বাড়ছে না। মূলত শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রেই এই দাম বাড়ানো হচ্ছে।

বিইআরসির সূত্রে জানা গেছে, সিএনজি, বিদ্যুৎ, সার ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে দাম বাড়বে। বিইআরসি আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই দাম বাড়ানোর আদেশ ঘোষণা করতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) আবদুল আজিজ খান প্রথম আলোকে বলেন, দাম বাড়ানোর আদেশ দেওয়ার দিনক্ষণ এবং কবে থেকে দাম বৃদ্ধির আদেশ কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে গ্যাসের দাম থেকে সম্পূরক শুল্ক বাদ দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এসআরও জারির ওপর।

সরকার আমদানি করা তরলীকৃত গ্যাসের (এলএনজি) ওপর থেকে ৪২ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক তুলে নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ওই এসআরওর মাধ্যমে আইনি বৈধতা পাবে। এটা না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের দাম হিসাব করার ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ বিইআরসির নেই।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারা সম্পূরক শুল্ক বাদ দেওয়ার প্রস্তাব সংবলিত এসআরওর একটি খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের (ভেটিং) জন্য পাঠিয়েছে। যেকোনো সময় আইন মন্ত্রণালয় সেই অনুমোদন দিতে পারে।

গ্যাস খাতের কোম্পানিগুলো গত এপ্রিলে গড়ে ৭৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বিইআরসি বরাবর আবেদন করে। গত জুনে বিইআরসি এই আবেদনের ওপর গণশুনানির আয়োজন করে। এরপর একাধিক সভায় আলোচনা ও হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে বিইআরসি দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।

এর আগে, গত বছর (২০১৭ সাল) ১ মার্চ সব গ্রাহক শ্রেণির ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। এরপর গত বছরের ১ জুন থেকে আরও এক দফা দাম বাড়ানোর আদেশ ছিল। কিন্তু কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সেই আদেশ বাতিল করেন।
এবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর একমাত্র কারণ আন্তর্জাতিক বাজারদরে আমদানি করা এলএনজির দাম সমন্বয় করা। গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে দেশে আসে প্রথম এলএনজিবাহী জাহাজ। গত ১৮ আগস্ট থেকে তা গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ শুরু করা হয়।