জাতীয়

আনন্দবাজারের চোখে বাংলাদেশের হারের ১০ কারণ

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে ভারতকে হারাতেই হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু লড়াই করে জয়ের কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত জয়টা পাওয়া হলো না। তবে হারলেও সাকিব, মুস্তাফিজ ও সাইফুদ্দিনদের লড়াকু মনোভাব জয় করে নিয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট প্রেমীদের মন। তাদের এমন লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন খোদ টিম ইন্ডিয়ার অধিানয়ক বিরাট কোহলিও। তারপরও তো দিন শেষে হারটাই লেখা হয়েছে টাইগারদের নামের পাশে। আর এই হারের পেছনে ১০টি কারণ খুঁজে বের করেছে ভারতের জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা।

পত্রিকাটি বলছে, সাকিবের আউট হওয়ার পরপরই প্রায় সকলেই ধরে নিয়েছিলেন ভারত ম্যাচটি জিতেই গেছে। কিন্তু হাল ছাড়েননি সাইফুদ্দিনরা। শেষ রক্ষা না হলেও তাদের মরিয়া লড়াই মনে রাখবে ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু ঠিক কোথায় পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ?

প্রতিবেদনে প্রথম কারণ হিসেবে বলা হয়, টস ভাগ্য বাংলাদেশের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। স্লো পিচে টস জিতলে ব্যাটিং নিশ্চয়ই করতেন মাশরাফি। তাতে রান তাড়া করতে মুশকিলে পড়তই ভারত।
রোহিত শর্মার ক্যাচ ফস্কানোর বিরাট মূল্য দিতে হল বাংলাদেশকে। ৯ রানে জীবন ফিরে পাওয়া রোহিত করলেন ১০৪ রান।

মাশরাফি এবং সাইফুদ্দিন বল হাতে তেমন বেগ দিতে পারেননি রোহিত-রাহুলকে। শুরুতে মুস্তাফিজুরকে আনলে হয়ত এই সমস্যা হত না।

সাকিব আর মুস্তাফিজুর ছাড়া কেউ ভাল বল করতেই পারলেন না। এই পিচে কীভাবে বল করা উচিত তা দেখিয়ে দিলেন দুই চ্যাম্পিয়ন।

মেহেদি হাসান মিরাজকে না নিয়ে কি ভুল করে ফেললেন নির্বাচকরা? সাকিবের স্পিনে হাঁসফাঁস করা ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা মিরাজের ঘূর্ণিতে বিপর্যস্ত হতেন না কি?

মাহমুদুল্লাহর চোট বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াল। মোসাদ্দেক হোসেনের বদলে মাহমুদুল্লাহ থাকলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত।

বড় রান তাড়া করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা নেয় পার্টনারশিপ। বাংলাদেশ সেই বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারল না। সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ হল সাব্বির-সাইফুদ্দিনের ৬৬ রানের।

মাশরফির ব্যাট হাতে আরেকটু পরিণত ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল। সাইফুদ্দিন যেখানে এত ভাল খেলছিলেন, সেখানে তাকে স্ট্রাইক না দিয়ে ঠিক করেননি বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন। তিনি তো জানতেন তারপর ব্যাট করতে আসবেন রুবেল আর মুস্তাফিজ।

রুবেল তো জানতেন বিপরীতে রয়েছেন সাইফুদ্দিন। বুমরা যে‌ ইয়র্কার করতে পারেন তা সবাই জানেন। রুবেল একটু সতর্ক হলে সাইফুদ্দিন পরের ওভারে পেতেন শামিকে। হয়ত বদলে যেত ম্যাচের রং।

একই কথা প্রযোজ্য মুস্তাফিজের ক্ষেত্রেও। বিশ্বের এক নম্বর বোলার যে তাকে ইয়র্কার দেবেন, সেটা প্রায় সবাই জানতেন। বুঝলেন না শুধু বল হাতে ভারতকে পিষে ফেলা ফিজ।