রংপুর বিভাগ

অধ্যক্ষ না থাকায় চিলাহাটি সরকারী ডিগ্রী কলেজের বেহাল অবস্থা,৪ মাস যাবৎ কর্মচারীর বেতন বন্ধ

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি ঃ নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি সরকারী কলেজে চার মাস ধরে অধ্যক্ষ যোগদান না করায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহতের পাশাপাশি বেতন ভাতাদি তুলতে না পেরে মানবেতর জীবন কাটাছ্ছেন ১৪ জন কর্মকর্তা কর্মচারী।
ওই কলেজের কর্মরতরা জানান, গত বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অধ্যক্ষের দায়িতে ছিলেন মো. ইদ্রিস মিয়া। তিনি সেখান থেকে বদলী হয়ে দিনাজপুর সরকারী মহিলা কলেজে যান। এরপর মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর সরকারী কলেজ থেকে রঞ্জিত কুমার সরকারকে ওই অধ্যক্ষের পদে পদায়ন করা হলে তিনি গতকাল সোমবার পর্যন্ত যোগদান করেননি।
তারা জানান, অধ্যক্ষ কাজে যোগদান না করায় একজন জেষ্ঠ প্রভাষকের দায়িতে¦ কলেজের পাঠদানের কার্যক্রমটি সচল রয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক অন্যান্য কাজ সহ আর্থিক লেনদেন বন্ধ আছে। এতে করে কলেজে কর্মরত চারজন কর্মকর্তাসহ ১০ জন কর্মচারী চার মাস ধরে বেতন তুলতে পারছেন না।
ওই কলেজের প্রধান অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান বলেন, কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা উত্তোলনে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর প্রয়োজন। কলেজের অধ্যক্ষ বদলীর পর নূতন অধ্যক্ষ পদায়ন হলেও তিনি যোগদান না করায় চার মাস ধরে বেতন ভাতা উত্তোলনসহ সকল ধরনের আর্থিক লেনদেন বন্ধ আছে। ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন সম্ভব না হওয়ায় কলেজের পাঠদানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে ক্লাশ পরিচালনায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকরা।
সেখানে কর্মরত আয়া সায়রা বেগম ও এমএলএস ফজলুল হক বলেন,‘সামান্য এ চাকুরীর আয়ে আমার আট সদস্যের পরিবার চলে। চার মাস ধরে বেতন তুলতে না পেরে ধার দেনা করে পরিবারের খাওয়া খরচ মিটাচ্ছি। আমার মতো করে অনেকে দোকানে বাকি অথবা ধার দেনা করেছেন। গত চার মাসে ৪৩ হাজার টাকা দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়েছেন বলে জানান।
অপর এমএলএসএস ইয়াছিন আলী বলেন,‘আমরা ছোট কর্মচারী, বেতনও সামান্য। সেটিই আমাদের জীবন জীবীকার একমাত্র ভরসা। কলেজের অধ্যক্ষ কাজে যোগদান না করায় ওই সামান্য বেতনও আমরা তুলতে পার ছি না। সরকারী চাকুরী করে আমরা বেতন তুলতে পারছি না এটা কেউ বিশ্বাসও করে না। ফলে অনেকেই আমাদেরকে ধার দেনা দিতেও দিধাদ্বন্দে ভুগেন। অপর দিকে প্রভাষকের ২৪ টি পদের বিপরিতে রয়েছে ১১জন। এই সরকারী কলেজটিতে প্রায় ৮ বৎসর যাবত কোন প্রকার সুইপার নেই। ৩য়/৪র্থ শেণীর ২৪ জন কর্মচারী সৃষ্ঠ পদ থাকার কথা অথচ আছে ১২ জন।২০১৭/২০১৮ইং অর্থ বৎসরের বরদ্দ ছিল ৩,৬০,০০০/ব্যয় হয় ২,০০০০০ ফেরৎ যায় ১,৬০,০০০।২০১৮/২০১৯ অর্থ বৎসরে বরাদ্দ আছে ১৯,৩৯,০০০। বর্তমানে ছাত্র ছাত্রীর সংখাও ভাল।শুধু অধ্যক্ষের কারনে চিলাহাটি সরকারী ডিগ্রী কলেজের প্রসাসনিক ব্যবস্থা মুখ থুবরে পরেছে। এলাকাবাসী মনে করেন, কলেজটি সরকারী করন হওয়ার পর থেকে লেখা পড়ার মান নি¤েœ পর্যায় এসছে,তাই নীলফামারী জেলার বাসিন্দা একজন অধ্যক্ষ থাকতেন তাহলে হয়তো আজকের মত বিড়ম্বনার শিকার হতে হত না।